কানের হাড় পঁচা রোগ (কোলেস্টেটোমা): অবহেলা নয়, সঠিক চিকিৎসা জরুরি!
আপনি কি দীর্ঘদিন ধরে কানের পুঁজ বা দুর্গন্ধযুক্ত পানির সমস্যায় ভুগছেন? কানের পেছনে কি ঘন ঘন ব্যথা হয়? এটিকে সাধারণ কান পাকা রোগ ভেবে অবহেলা করছেন না তো?
ইএনটি (ENT) চিকিৎসায় একে বলা হয় কোলেস্টেটোমা (Cholesteatoma), যা মানুষের কাছে “কানের হাড় পঁচা রোগ” নামেই বেশি পরিচিত। সময়মতো চিকিৎসা না করালে এটি কানের শোনার ক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে, এমনকি ইনফেকশন মস্তিষ্কেও ছড়িয়ে যেতে পারে।
কোলেস্টেটোমা বা কানের হাড় পঁচা রোগের প্রধান লক্ষণসমূহ:
১. অতিরিক্ত দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ: কান থেকে অনবরত বা থেকে থেকে পুঁজ আসা, যার সাথে তীব্র দুর্গন্ধ থাকে।
২. শ্রবণশক্তি হ্রাস পাওয়াত: আস্তে আস্তে এক কান থেকে কম শুনতে পাওয়া বা কানে বাঁশির মতো শব্দ হওয়া (Tinnitus)।
৩. কানে অস্বস্তি বা ভারী বোধ হওয়া: কানের ভেতরে একটা চাপ বা ভারী অনুভূতি থাকা।
৪. মাথা ঘোরা ও ভারসাম্যহীনতা: হঠাৎ মাথা ঘোরা বা শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে কষ্ট হওয়া।
৫. কানের পেছনে বা মাথায় তীব্র ব্যথা: ইনফেকশন কানের পেছনে ছড়িয়ে পড়লে এমনটি হতে পারে।
৬. মুখের একপাশ বেঁকে যাওয়া: কানের ভেতরের স্নায়ু আক্রান্ত হলে ফেসিয়াল প্যারালাইসিস (Facial Paralysis) বা মুখ বেঁকে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
করণীয় ও প্রতিকার:
অবিলম্বে ইএনটি (नाक-কান-গলা) বিশেষজ্ঞ দেখান: প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্ত করতে পারলে কানের বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো যায়।
কানে পানি ঢুকতে দেবেন না: গোসলের সময় বা সাঁতার কাটার সময় অবশ্যই কানে প্লাগ বা ভেসলিন লাগানো তুলো ব্যবহার করুন।
নিজে নিজে কানে কিছু দেবেন না: কখনো কানের ভেতরে কটন বাড, চাবি, বা কাঠি দিয়ে খোঁচাবেন না।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কানের ড্রপ ব্যবহার করবেন না: ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে বা ড্রপ কিনে কানে দেওয়া বন্ধ করুন।
অপারেশনের পরামর্শ পেলে কালক্ষেপণ করবেন না: কোলেস্টেটোমার স্থায়ী সমাধান হলো অস্ত্রোপচার (Surgery/Mastoidectomy)। ওষুধ দিয়ে রোগটি সম্পূর্ণ ভালো করা সম্ভব নয়, এটি কেবল ইনফেকশন সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
মনে রাখবেন: কানের ভেতরের হাড় পঁচে মস্তিষ্কে পৌঁছালে এটি জীবনঘাতী হয়ে উঠতে পারে। তাই কানের দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজকে অবহেলা না করে আজই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Md.Rafiqul Islam Lipu