কিছু বাচ্চা মাসের মধ্যে কিছুদিন ভাল খাবার খায় আবার কিছুদিন ভাল খায় না এটার আসলে কারণ কি এবং সমাধান কি?
কেন এমন হয়? (কারণসমূহ)
১. গ্রোথ স্পার্ট (Growth Spurt) বা বৃদ্ধির গতি
শিশুদের বৃদ্ধি সবসময় একই গতিতে হয় না। মাসের যে সময়টাতে বাচ্চার শারীরিক বৃদ্ধি দ্রুত হয় (যাকে Growth Spurt বলা হয়), তখন তাদের শরীরে ক্যালোরির চাহিদা বেড়ে যায় এবং তারা খুব ভালো খায়। আবার যখন বৃদ্ধির গতি কিছুটা মন্থর থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবেই তাদের ক্ষুধা কমে যায়।
২. দাঁত ওঠা (Teething)
বাচ্চাদের নতুন দাঁত ওঠার সময় মাড়িতে ব্যথা ও অস্বস্তি হয়। সাধারণত মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে যখন দাঁত মাড়ি ভেদ করে ওঠার চেষ্টা করে, তখন বাচ্চারা শক্ত বা গরম খাবার একদমই মুখে নিতে চায় না।
৩. হালকা বা সুপ্ত সংক্রমণ (Subclinical Infections)
অনেক সময় বাচ্চার শরীরে মৃদু ঠাণ্ডা লাগা, সামান্য গলা ব্যথা, পেটে গ্যাস বা কৃমির সমস্যা থাকতে পারে, যা বাইরে থেকে বোঝা যায় না। এই অস্বস্তির দিনগুলোতে বাচ্চার খাওয়ার রুচি একদম কমে যায়।
৪. মনস্তাত্ত্বিক কারণ ও একঘেয়েমি
একই ধরনের খাবার প্রতিদিন দিলে বাচ্চাদের মধ্যে ‘Food Neophobia’ বা নতুন খাবারের প্রতি অনীহা এবং পুরনো খাবারের প্রতি একঘেয়েমি তৈরি হতে পারে। এছাড়া জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা করলে বাচ্চার মনে খাবারের প্রতি একটা নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়, ফলে সে খাওয়া বন্ধ করে দেয়।
৫. শারীরিক সক্রিয়তা (Physical Activity)
যেসব দিনগুলোতে বাচ্চা বেশি খেলাধুলা বা দৌড়াদৌড়ি করে, সেদিন তার ক্ষুধা বেশি থাকে। আবার কোনো কারণে অলস বা ঘরের মধ্যে বন্দি থাকলে শক্তির ক্ষয় কম হয়, ফলে ক্ষুধাও কম লাগে।
করণীয় ও সমাধান (Management)
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে বাবা-মাকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে:
জোর করে খাওয়ানো সম্পূর্ণ বন্ধ করুন: বাচ্চা যখন খেতে চাচ্ছে না, তখন জোর জবরদস্তি করলে তার খাওয়ার প্রতি স্থায়ী অনিহা তৈরি হতে পারে। সে যতটুকু খেতে চায়, ততটুকুই দিন।
খাবারের বৈচিত্র্য (Variety): খাবারের মেন্যুতে পরিবর্তন আনুন। একই খিচুড়ি বা সুজি প্রতিদিন না দিয়ে রান্নার ধরন, স্বাদ ও উপস্থাপনা পরিবর্তন করুন। খাবারকে আকর্ষণীয় ও রঙিন করে তুলুন।
স্মল ফ্রিকোয়েন্ট মিল (Small Frequent Meals): একবারে অনেক খাবার প্লেটে না দিয়ে অল্প অল্প করে দিনে ৫-৬ বার খাবার দিন। ভালো খাওয়ার দিনগুলোতে পুষ্টিকর ও ক্যালোরি-ঘন খাবার (যেমন: ঘি, মাখন, ডিম, বাদাম বা ডাল মেশানো খাবার) নিশ্চিত করুন, যাতে পরবর্তী কম খাওয়ার দিনগুলোর ঘাটতি পূরণ হয়ে যায়।
খাবারের সময় নির্দিষ্ট করা: প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে খাবার দেওয়ার অভ্যাস করুন। খাওয়ার সময় মোবাইল, টিভি বা গ্যাজেটস সম্পূর্ণ বন্ধ রাখুন।
জাঙ্ক ফুড ও বাড়তি তরল পরিহার: মূল খাবারের ঠিক আগে চিপস, চকলেট, জুস বা অতিরিক্ত দুধ খাওয়াবেন না। এতে পেট ভরে যায় এবং বাচ্চার মূল খাবারের ক্ষুধা নষ্ট হয়।
শারীরিক সক্রিয়তা বাড়ানো: বাচ্চাকে প্রতিদিন কিছু সময় ঘরের বাইরে খেলাধুলা করতে দিন। এতে শারীরিক পরিশ্রম হবে এবং প্রাকৃতিকভাবেই ক্ষুধা বাড়বে।
বাচ্চার প্রতিদিনের খাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে, পুরো সপ্তাহের বা মাসের গড় পুষ্টির দিকে লক্ষ্য রাখুন। যদি বাচ্চার ওজন বয়স অনুযায়ী ঠিকঠাক বাড়ে, সে সারাদিন চঞ্চল ও প্রাণবন্ত থাকে এবং তার প্রস্রাব-পায়খানা স্বাভাবিক হয়, তবে এই সাময়িক অরুচি নিয়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই।
Md.Rafiqul Islam Lipu,Date:-19-09-2026,Saturday,Time:-06-04-35 Pm