আপনার বাচ্চা যদি খাওয়া দাওয়া অরুচি থাকে অবশ্যই একটা সিবিসি টেস্ট করবেন। শরীরে হিমোগ্লোবিন ঠিক আছে কিনা চেক দিবেন। এই বাচ্চার দুইটা সমস্যা ছিল , বারবার জ্বর আসা এবং অরুচি। রক্ত কম থাকলে এই দুইটা সমস্যা বেশি দেখা দেয়।
রক্ত বাড়ার ঔষধ কমেন্টে দেখুন (সম্পূর্ণ কমেন্টে শর্ত দেখে নিবেন)
বাচ্চার খাওয়া-দাওয়ার প্রতি আগ্রহ কমে গেলে বা অরুচি দেখা দিলে, সিবিসি (Complete Blood Count) টেস্ট করানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই টেস্টের মাধ্যমে রক্তের বিভিন্ন উপাদান যেমন হিমোগ্লোবিন, লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা, প্লেটলেট ইত্যাদির পরিমাণ পরীক্ষা করা হয়। এর মাধ্যমে আপনি যদি কোনো রক্তের অসুস্থতা বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা যেমন এনিমিয়া, ইনফেকশন, লিভারের সমস্যা বা অন্যান্য গুরুতর অসুখের লক্ষণ পান, তবে তা চিহ্নিত করা যায়।
কেন সিবিসি টেস্ট করানো প্রয়োজন?
- এনিমিয়া (Anemia): এটি একটি সাধারণ কারণ হতে পারে যে শিশু পর্যাপ্ত পরিমাণে হিমোগ্লোবিন পাচ্ছে না, যার ফলে খাওয়ার প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে। সিবিসি টেস্টে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা পরীক্ষা করা হয় এবং যদি তা কম থাকে তবে এনিমিয়ার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়।
- ইনফেকশন বা প্রদাহ: শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা বেশি হলে এটি শরীরে ইনফেকশন বা প্রদাহের সংকেত হতে পারে। বিশেষ করে যদি শিশুর খাওয়ার অরুচির সাথে সর্দি, জ্বর, বা অন্যান্য লক্ষণও থাকে, তবে সিবিসি টেস্ট এর মাধ্যমে এটি চিহ্নিত করা যেতে পারে।
- লিভার বা কিডনি সমস্যা: কিছু সময় শিশুদের খাবারে অরুচি থাকলে এর সাথে লিভার বা কিডনির কোনো সমস্যা সম্পর্কিত হতে পারে। সিবিসি টেস্টে সাধারণভাবে এটি সম্পূর্ণভাবে ধরা না পড়লেও, অন্যান্য উপসর্গের ভিত্তিতে চিকিৎসক আরও টেস্টের পরামর্শ দিতে পারেন।
- প্লেটলেট সমস্যা: সিবিসি টেস্ট প্লেটলেটের পরিমাণও পরীক্ষা করে, যা রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। কোনো অসুস্থতার কারণে প্লেটলেটের পরিমাণ কমে যেতে পারে, এবং এটি শিশুর শারীরিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
টেস্টের ফলাফলের মাধ্যমে চিহ্নিত করা যেতে পারে:
- লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা: কমে গেলে এনিমিয়া বা রক্তাল্পতা নির্দেশ করতে পারে।
- শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা: বাড়লে শরীরে ইনফেকশন বা প্রদাহ থাকতে পারে।
- প্লেটলেট সংখ্যা: কম হলে রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
ডেভিডসনের Principles and Practice of Medicine অনুযায়ী, এই রকম পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে চিকিৎসক শিশুর শারীরিক অবস্থা সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারেন এবং সেই অনুযায়ী উপযুক্ত চিকিৎসা প্রদান করতে পারেন।
সুতরাং, শিশুর খাওয়া-দাওয়ার অরুচি থাকলে সিবিসি টেস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয় যেটি সঠিক কারণ চিহ্নিত করতে এবং চিকিৎসা সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
Drop Compiron
যত কেজি তত ফোটা প্রতিদিন ১ মাস
Syp B 9
দুই বছরের নিচে হাফ চামচ প্রতিদিন ১ মাস
দুই বছরের উপরে এক চামচ প্রতিদিন ১ মাস
এক মাস খাওয়ার পর আবারো CBC টেস্ট করে রক্ত বাড়ছে কিনা চেক দিতে হবে।
এই দুইটা ওষুধ শুধুমাত্র যদি পুষ্টিকর খাওয়া-দাওয়ার অভাবে বা আয়রনের অভাবে রক্তশূন্যতা হয় সেই ক্ষেত্রে কাজ করবে। অন্য কোন কারণে রক্তশূন্যতা হলে কাজ করবে না। তাই কি কারণে রক্ত কমছে সেটা কনফার্ম হতে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন এবং ঔষুধ খাওয়াবেন
বাংলাদেশে B-9 সিরাপটি Square Pharmaceuticals PLC দ্বারা প্রস্তুত করা হয়। এই সিরাপের জেনেরিক নাম হলো ফোলিক অ্যাসিড (Folic Acid), যা মূলত ভিটামিন বি৯ হিসেবে পরিচিত। এটি সাধারণত মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া, ফোলিক অ্যাসিডের অভাবজনিত অ্যানিমিয়া, গর্ভাবস্থায় নিউরাল টিউব ডিফেক্ট প্রতিরোধ, এবং শিশুদের পুষ্টির অভাবজনিত অ্যানিমিয়া চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় ।
B-9 সিরাপের ব্যবহার:
- ফোলিক অ্যাসিডের অভাব: শরীরে ফোলিক অ্যাসিডের অভাব পূরণে।
- মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া: হিমোগ্লোবিনের অভাবে রক্তের উৎপাদন কমে যাওয়া।
- গর্ভাবস্থায় নিউরাল টিউব ডিফেক্ট প্রতিরোধ: গর্ভাবস্থায় শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের সঠিক বিকাশে সহায়তা।
- শিশুদের পুষ্টির অভাবজনিত অ্যানিমিয়া: শিশুদের রক্তস্বল্পতা দূর করতে।
ডোজ ও ব্যবহারের নির্দেশনা:
- শিশুরা (১ মাস থেকে ১ বছর): প্রতিদিন ৫০০ মাইক্রোগ্রাম প্রতি কেজি শরীরের ওজন।
- শিশুরা (১ বছর ও তার বেশি): প্রাপ্তবয়স্কদের মতো ৫ মিগ্রা দৈনিক।
- প্রাপ্তবয়স্করা: প্রাথমিকভাবে ৫ মিগ্রা দৈনিক ৪ মাস পর্যন্ত, এরপর ৫ মিগ্রা প্রতি ১-৭ দিনে একবার।
B-9 সিরাপ সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা বা হাইপারসেনসিটিভিটি প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
Square Pharmaceuticals PLC বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, যা উচ্চমানের ওষুধ উৎপাদনে সুপরিচিত।
B-9 সিরাপ বাংলাদেশের বিভিন্ন ফার্মেসিতে পাওয়া যায় এবং এর দাম প্রায় ৳৫০.০০ প্রতি ১০০ মিলি।
দ্রষ্টব্য: যেকোনো ওষুধ ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।
যদি সিবিসি টেস্টে হিমোগ্লোবিন কম থাকে এবং শিশুর অরুচি সহ অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে এটি এনিমিয়া (Anemia) হতে পারে। ডেভিডসনের Principles and Practice of Medicine অনুযায়ী, এনিমিয়ার চিকিৎসার জন্য বেশ কিছু দৃষ্টিভঙ্গি এবং চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে। হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কম থাকলে, শিশুর নির্দিষ্ট বয়স, স্বাস্থ্য অবস্থা, এবং এনিমিয়ার ধরনের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়।
১. ফেরাস সল্ট (Iron Salts)
এনিমিয়ার সবচেয়ে সাধারণ চিকিৎসা হল আয়রন বা লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্যকারী ট্যাবলেট বা সিরাপের মাধ্যমে আয়রন প্রদান করা। এটি সাধারণত ফেরাস সালফেট (Ferrous Sulfate) অথবা ফেরাস গ্লুকোনেট (Ferrous Gluconate) হিসেবে দেওয়া হয়।
ডোজ:
- শিশুদের জন্য ফেরাস সালফেটের সাধারণ ডোজ প্রায় 3-6 মিলিগ্রাম প্রতি কেজি শরীরের ওজন। এটি সাধারণত দিনে একবার অথবা দুইবার দেওয়া হয়।
- সিরাপের মধ্যে আয়রনের পরিমাণ এবং ডোজের নির্দেশিকাটি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নয়, বরং শিশুর বয়স এবং শরীরের মাপ অনুযায়ী হতে পারে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- কোষ্ঠকাঠিন্য (Constipation)
- পেটব্যথা (Stomach discomfort)
- কালো মল (Black stools)
২. ভিটামিন বি১২ (Vitamin B12) এবং ফোলিক অ্যাসিড (Folic Acid)
এনিমিয়ার বিশেষ কিছু ধরনের (যেমন মেগালোব্লাস্টিক এনিমিয়া) ক্ষেত্রে ভিটামিন বি১২ এবং ফোলিক অ্যাসিডের অভাব থাকতে পারে। এই ক্ষেত্রে ভিটামিন বি১২ এবং ফোলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয়।
ডোজ:
- ফোলিক অ্যাসিড: 1-2 মিলিগ্রাম দৈনিক
- ভিটামিন বি১২: প্রয়োজন অনুযায়ী ইনজেকশন বা ট্যাবলেট দিয়ে দেওয়া হয়।
৩. যদি ইনফেকশন বা প্রদাহ থাকে
যদি হিমোগ্লোবিন কম থাকার সাথে কোনো ধরনের ইনফেকশন বা প্রদাহ (যেমন, পেটের সংক্রমণ, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ) দেখা দেয়, তবে সেগুলোর চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক (Antibiotics) বা অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি ড্রাগ (Anti-inflammatory drugs) দেওয়া হতে পারে। এসবের মধ্যে পারাসিটামল (Paracetamol) বা আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen) অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
৪. ব্লাড ট্রান্সফিউশন (Blood Transfusion)
যদি হিমোগ্লোবিনের মাত্রা খুবই কম (এমনকি ৫ গ্রাম/ডিলিটার) হয়ে থাকে এবং শিশুর শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়, তবে ব্লাড ট্রান্সফিউশন দেওয়া হতে পারে। এটি সাধারণত তখনই করা হয় যখন শিশু গুরুতর অ্যানিমিয়া বা শক অবস্থায় থাকে।
৫. খাবার ও পুষ্টি
শিশুকে লোহিত রক্তকণিকা বাড়ানোর জন্য পুষ্টিকর খাবার দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে রয়েছে:
- লোহিত রক্তকণিকা তৈরি করতে সহায়ক খাবার যেমন মাংস, ডিম, পালং শাক, খেজুর, চিজ, এবং গমের মতো খাদ্যদ্রব্য।
- ভিটামিন সি (Vitamin C)-সমৃদ্ধ খাবার (যেমন, কমলা, লেবু, টমেটো) আয়রন শোষণে সাহায্য করতে পারে।
৬. হিমাটোক্রিট এবং হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা পুনরায়
এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর অন্তত এক মাস পরে সিবিসি টেস্টের মাধ্যমে হিমোগ্লোবিন এবং হিমাটোক্রিট পরিমাণ পরীক্ষা করা উচিত, যাতে চিকিৎসার ফলাফল সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা যায়।
উপসংহার:
ডেভিডসনের Principles and Practice of Medicine অনুসারে, হিমোগ্লোবিন কম থাকার কারণে শিশুদের জন্য আয়রন সাপ্লিমেন্ট (ফেরাস সালফেট), ভিটামিন বি১২, ফোলিক অ্যাসিড এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ব্লাড ট্রান্সফিউশন গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা হতে পারে। এছাড়া, খাবারের মাধ্যমে পুষ্টি প্রদান এবং সঠিক বিশ্রাম শিশুর দ্রুত আরোগ্য লাভে সহায়ক হতে পারে।
ফেরাস সল্ট (Iron Salts) সিরাপের ki brand name in bd?
বাংলাদেশে ফেরাস সল্ট (Ferrous Sulfate) সিরাপের বেশ কিছু ব্র্যান্ড পাওয়া যায়, যা আয়রন ডেফিশিয়েন্সি অ্যানিমিয়া (Iron Deficiency Anemia) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। নিচে কিছু জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের তালিকা দেওয়া হলো:
| ব্র্যান্ড নাম | প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান | পরিমাণ (200 mg/5 ml) | মূল্য (প্রায়) |
| Ferroglobin | ACME Laboratories Ltd. | 200 mg/5 ml | ৳40.25 |
| Aristoferon | Beximco Pharmaceuticals Ltd. | 200 mg/5 ml | ৳40.25 |
| Ascoferon | Monicopharma Ltd. | 200 mg/5 ml | ৳26.75 |
| Feglobin | Union Pharmaceuticals Ltd. | 200 mg/5 ml | ৳25.00 |
| Ferigun S | Medimet Pharmaceuticals Ltd. | 200 mg/5 ml | ৳26.50 |
| Feroblood | Aztec Pharmaceuticals Ltd. | 200 mg/5 ml | ৳24.00 |
| Feromat | Pharmadesh Laboratories Ltd. | 200 mg/5 ml | ৳25.00 |
| Ferrum | Modern Pharmaceuticals Ltd. | 200 mg/5 ml | ৳24.89 |
| G-Iron | Gonoshasthaya Pharma Ltd. | 200 mg/5 ml | ৳25.00 |
| Hemobin | Zenith Pharmaceuticals Ltd. | 200 mg/5 ml | ৳40.00 |
| Metaton | Alkad Laboratories | 200 mg/5 ml | ৳26.15 |
| Salferon | Salton Pharmaceuticals Ltd. | 200 mg/5 ml | ৳24.09 |
| Sinaferon | Ibn Sina Pharmaceuticals Ltd. | 200 mg/5 ml | ৳40.00 |
উপরোক্ত ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে Ferroglobin এবং Aristoferon তুলনামূলকভাবে বেশি পরিচিত এবং ব্যবহৃত হয়। তবে, ব্র্যান্ডের পরিবর্তে সিরাপের গুণগত মান এবং শিশুর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী ডোজ নির্ধারণ করা উচিত।
যদি হিমোগ্লোবিন কম থাকে এবং শিশুর খাওয়া-দাওয়ার অরুচি দেখা দেয়, তাহলে ফেরাস সল্ট সিরাপের পাশাপাশি ভিটামিন বি১২ এবং ফোলিক অ্যাসিডের সাপ্লিমেন্টও প্রয়োজন হতে পারে। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ডেভিডসনের Principles and Practice of Medicine বইয়ের সংশ্লিষ্ট অধ্যায় পর্যালোচনা করা যেতে পারে।
যদি আপনি নির্দিষ্ট কোনো ব্র্যান্ড বা সিরাপের দাম, উপাদান বা ডোজ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে চান, তাহলে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের নাম উল্লেখ করে প্রশ্ন করতে পারেন।
Md.Rafiqul Islam Date:-10-04-2026 Friday Time:-04-42-25 Pm