Hello I'm Raiyyan Tahsan
Brand Model and Executive

TC(661).(02).Dermatology  Case No 68.Burn

Definition of Burn :-

বার্ন (Burn) হল ত্বক বা শরীরের অন্য কোনো অংশে তাপ, রাসায়নিক, বৈদ্যুতিক, অথবা তেজস্ক্রিয়তার কারণে আঘাতের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি। এটি সাধারণত ত্বকের পৃষ্ঠে বা গভীরে ক্ষতির সৃষ্টি করে, যার ফলে ব্যথা, লালচে ভাব, ফোলা, এবং কখনও কখনও ফোস্কা (ব্লিস্টার) বা দাগ হতে পারে। বার্নের তীব্রতা তাপের পরিমাণ, ক্ষতস্থান এবং আঘাতের গভীরতার ওপর নির্ভর করে।

বর্ণনার ডিগ্রি অনুযায়ী বার্নের শ্রেণীবিভাগ নিচে দেওয়া হল:

1. প্রথম-ডিগ্রি বার্ন (Superficial Burns)

প্রভাবিত এলাকা: ত্বকের বাহ্যিক স্তর (এপিডারমিস)।

লক্ষণ: লালচে ভাব, ব্যথা, ফোলা এবং সামান্য প্রদাহ। ত্বক শুষ্ক থাকে, তবে কোন ব্লিস্টার (পানি ভরা ফোস্কা) দেখা যায় না।

আরোগ্য সময়: সাধারণত ৭-১০ দিনের মধ্যে সেরে ওঠে, এবং চিহ্ন নেই।

2. দ্বিতীয়-ডিগ্রি বার্ন (Partial-Thickness Burns)

প্রভাবিত এলাকা: ত্বকের বাহ্যিক স্তর (এপিডারমিস) এবং নীচের স্তরের (ডার্মিস) একটি অংশ।

লক্ষণ: ফোস্কা, তীব্র ব্যথা, লালচে ভাব, ফোলা এবং সম্ভবত দাগ পড়া। ত্বক চকচকে এবং ভিজে থাকতে পারে।

আরোগ্য সময়: সেরে উঠতে ২-৩ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় নিতে পারে। দাগ পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

3. তৃতীয়-ডিগ্রি বার্ন (Full-Thickness Burns)

প্রভাবিত এলাকা: ত্বকের পুরো পুরুত্ব, যার মধ্যে এপিডারমিস, ডার্মিস এবং কখনও কখনও গভীর টিস্যুগুলির (যেমন চর্বি, পেশি এবং হাড়) ক্ষতি হয়।

লক্ষণ: ত্বক সাদা, পুড়ে যাওয়া বা চামড়ার মতো কঠিন দেখাতে পারে। বার্নের এলাকা সাধারণত ব্যথাহীন হয়, কারণ স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আরোগ্য সময়: এসব বার্ন নিজে থেকে ঠিক হয় না। চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, যেমন স্কিন গ্রাফটিং। স্থায়ী দাগ পড়তে পারে।

4. চতুর্থ-ডিগ্রি বার্ন (Extremely Severe Burns)

প্রভাবিত এলাকা: ত্বক থেকে গভীর টিস্যু, যেমন টেনডন, পেশি এবং হাড়ের স্তর পর্যন্ত ক্ষতি।

লক্ষণ: ক্ষতস্থল কালো বা পুড়ে যাওয়া হতে পারে। প্রচুর টিস্যু ক্ষতি হয়, এবং এটি জীবন-সংকটাপন্ন হতে পারে।

আরোগ্য সময়: এসব বার্ন যদি তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা না দেওয়া হয়, তবে এটি মৃত্যু ঘটাতে পারে এবং সার্জারির প্রয়োজন হয়।

জ্বালাপোড়া (Burn) রোগীদের ক্ষেত্রে শরীরের কত শতাংশ অংশ পোড়লে কত ডিগ্রি (degree) বার্ন হিসেবে ধরা হয়, সেটি চিকিৎসা বিজ্ঞানে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসারে নির্ধারিত হয়। নিচে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হলো:

শরীরে কত % পোড়া গেছে, এইটা হিসাব করা হয় Rule of 9 দিয়ে, ধরুন,

এক হাতের দুই পাশে পোড়া যাওয়া মানে ৯% বার্ণ

একটা পা পুড়ে যাওয়া মানে ১৮%, প্রতিপাশে ৯% করে।

practical approach হিসাব করলে দেখা যায়, কারো যদি ৪০% পুড়ে যায়, তাহলে তার মৃত্যুর রিস্ক ৯০% হয়ে যায়, প্রথম কয়েকদিন সুস্থ সাবলীল ভাবে কথা বললেও পরে dehydration +sepsis হয়ে মারা যায় , এই হিসাবে আজকে যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, এদের মধ্যে প্রায় ৯০% মৃত্যু পথের যাত্রী–

New concept added:-

দুর্ঘটনায় Burn Management যে ভাবে করা হয়-

গতকাল উত্তরা মাইলস্টোনের ভয়াবহ প্লেন ক্র্যাশ আমাদের মনে করিয়ে দিল, বড় অগ্নিকাণ্ডে শরীর পুড়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসার জ্ঞান কতটা জরুরি।

বিশেষ করে, দগ্ধ রোগীর শরীরে কত শতাংশ পুড়েছে – এটা জানা চিকিৎসকের জন্য জীবন বাঁচানোর প্রথম ধাপ।

তাই আজ একটু stable হয়ে মেডিকেল স্টুডেন্ট হয়ে বিষয়টা নিয়ে বিস্তারিত লিখা।।

শরীরের পুড়ার হিসাব করার সবচেয়ে দ্রুত ও সহজ পদ্ধতি হলো – Rule of 9

শরীরকে ভাগ ভাগ করে ধরা হয়ঃ

• মাথা ও ঘাড় ৯% (বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ১৮% )

• একেকটা হাত ৯%

• বুকের সামনের দিক (chest+abdomen) ১৮%

• পিঠের দিক (Back of the trunk) ১৮%

• একেকটা পা ১৮% (বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ১৩.৫% করে)

• গোপনাঙ্গ (Perineum) ১%

ধরুন, যদি দুই হাত, বুকের সামনের দিক আর মুখ পুড়ে যায়, তাহলে = ৯% + ৯% + ১৮% + ৯% = ৪৫% দগ্ধ। ( শিশু হলে ৫৪% দগ্ধ)

এই হিসাবের উপর নির্ভর করে রোগী ICU দরকার কি না, fluid কত দিতে হবে ইত্যাদি সিদ্ধান্ত হয়।

Hospital Admit (বা ICU ) মূল শর্ত –

Partial thickness বার্ণ (2nd degree burn) যদি ১৫% এর উপর হয় (Adult ) অথবা ১০% এর উপর ( Children )

Full thickness (3rd degree burn) বার্ন হলে ৫% এর উপর হইলেই হাসপাতালে এডমিট করতে হয়।

এছাড়াও শর্ত আছে , যা প্রাসঙ্গিক আজকের জন্য শুধু সেগুলো বললাম।

গতকালকের ভিডিও তে দেখা প্রায় বেশিরভাগেরই ছিল 2nd degree & 3rd degree burn.

এখন আসি, কীভাবে স্যালাইন দেওয়া হয় দগ্ধ রোগীকে?

পুড়ে যাওয়ার পর দেহ প্রচুর পানি হারায়। বাঁচাতে হলে সেই পানি দ্রুত দিতে হয়।

এই জন্য বিশ্বব্যাপী চিকিৎসায় ব্যবহার হয়ঃ

Parkland Formula:

Fluid (ml) = 4 ml × Body weight (kg) × % Burn area

কীভাবে দেবেন?

প্রথম ৮ ঘণ্টায় অর্ধেক

পরের ১৬ ঘণ্টায় বাকি অর্ধেক

উদাহরণঃ

৬০ কেজি রোগী, ৪৫% পুড়েছে।

= 4 × 60 × 45 = 10,800 ml স্যালাইন

প্রথম ৮ ঘণ্টায় ৫,৪০০ ml

পরের ১৬ ঘণ্টায় ৫,৪০০ ml

শেষ কিছু জরুরী কথা:

Burn Injury মানেই শুধু চামড়া পুড়েনি, পুরো শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ছে।

সঠিক হিসাব আর দ্রুত স্যালাইনই জীবন বাঁচায়।এই স্যালাইন সময়মত পাচ্ছে কিনা এটার উপরও রোগীর জীবনমরণ নির্ভর করতেসে (prognosis). হাসপাতালে নিতে অনেক বেশি দেরি হয়ে গেলেও কিন্তু এই পানিশুন্যতা থেকে রোগী hypovolemic shock এ চলে যায় , যেটা সময়মত রিভার্স করা না গেলে আস্তে আস্তে একটার পর একটা Organ fail করতে শুরু করে , ফলশ্রুতিতে মৃত্যু অনেকটা অবধারিত।

এছাড়াও রোগীর আশেপাশে বেশি মানুষ এসময় এলাউ করা মোটেও medically রাইট না, sepsis ডেভেলাপ করে Septic shock এ চলে যেতে পারে , যেটাও অর্গান ফেইল করে মৃত্যুর দিকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যায়।

একটা burn patient এর prognosis (ভালো হওয়ার সম্ভাবনা ) আরও অনেক ফ্যাক্টরের উপর ডিপেন্ড করলেও লাস্ট আরেকটি জিনিস জানিয়ে আজকের পোস্ট শেষ করব যেটা হলো আগুনের বদ্ধ রুমে Inhalation burn(শ্বাসনালিতে পোড়া) হলে সেক্ষেত্রে শুধু ৩০% বার্ণ নিয়েও রোগীর অবস্থা ভালো থাকেনা , বাঁচানো কঠিন হয়ে যায় । তাই সব সময় বার্নের পার্সেন্টেজ দেখেই রোগী মারা গেলে ডাক্তারকে গালি দিতে আসবেন না না বুঝে । এরকম ভাবে Electric burn , Chemical burn এও আপাত ভাবে বার্ন বাইরে কম বুঝা গেলেও রোগীর ভিতরে কন্ডিশন থাকে যায় যায় অবস্থা।

Burn-এর ধরণ (Degree অনুযায়ী)

১ম ডিগ্রি বার্ন (First Degree Burn):

কতটা অংশে হয়: শুধুমাত্র চামড়ার উপরিভাগ (epidermis) পোড়ে।

লক্ষণ: লালচে হয়ে যায়, হালকা ব্যথা থাকে, ফোলা থাকে না বা ফোস্কা পড়ে না।

উদাহরণ: রোদে পোড়া (sunburn)।

শরীরের যত %-ই হোক, এটি সাধারণত কম গুরুতর।

—

২য় ডিগ্রি বার্ন (Second Degree Burn):

কতটা অংশে হয়: চামড়ার উপরিভাগ এবং কিছুটা নিচের স্তর (dermis) পর্যন্ত পোড়ে।

লক্ষণ: প্রচণ্ড ব্যথা, ফোলা, পানি ভর্তি ফোস্কা (blister), লালচে বা সাদা ছোপ দেখা যায়।

শরীরের যত % অংশে হলে গুরুতর ধরা হয়:

শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে >10% পোড়া হলে হাসপাতালে ভর্তি প্রয়োজন।

তরুণ-স্বাস্থ্যমানুষের ক্ষেত্রে >15%-20% হলে গুরুতর ধরা হয়।

—

৩য় ডিগ্রি বার্ন (Third Degree Burn):

কতটা অংশে হয়: পুরো চামড়া সহ নিচের টিস্যু, নার্ভ, পেশী পর্যন্ত পোড়ে।

লক্ষণ: চামড়া সাদা, কালো বা খয়েরি হয়ে যেতে পারে; অনুভূতি হারিয়ে যেতে পারে (কারণ নার্ভ পুড়ে যায়); ফোস্কা নাও থাকতে পারে।

শরীরের যত % পোড়লে গুরুতর:

>10% হলে খুব গুরুতর ধরা হয়।

তবে কম % হলেও যদি মুখ, হাত, পা, যৌনাঙ্গ বা গুরুত্বপূর্ণ জয়েন্টে হয়, তবুও একে গুরুতর ধরা হয়।

—

Rule of Nines – শরীরের কোন অংশ কত শতাংশ?

এই নিয়মে শরীরকে বিভিন্ন অংশে ভাগ করে মোট পোড়ার শতকরা হিসাব করা হয়:

অংশ শতাংশ (%)

মাথা ও গলা 9%

প্রতিটি হাত 9%

প্রতিটি পা 18%

বুক ও পেট (সামনের অংশ) 18%

পিঠ ও কোমর (পেছনের অংশ) 18%

যৌনাঙ্গ 1%

—

সংক্ষেপে সিদ্ধান্ত:

শতাংশ (%) পোড়া ডিগ্রি গুরত্ব

১ম ডিগ্রি যেকোন % সাধারণত গুরুতর নয়

২য় ডিগ্রি >১৫% গুরুতর ধরা হয়

৩য় ডিগ্রি >১০% অত্যন্ত গুরুতর

—

নোট: যদি মুখ, চোখ, হাত-পা, যৌনাঙ্গ বা জয়েন্ট পুড়ে যায়, তবে যত কম %-ই হোক, এটি গুরুতর বিবেচিত হয় এবং বিশেষজ্ঞের কাছে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।

Burn er Risk factor :-

বার্ন রোগীর জন্য কিছু বিশেষ ঝুঁকি বা বিপদ থাকে, যা রোগীর অবস্থা এবং বার্নের তীব্রতার উপর নির্ভর করে। এই ঝুঁকিগুলি নিচে দেওয়া হলো:

1. ইনফেকশন

বার্নের কারণে ত্বকের উপরিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা অন্যান্য প্যাথোজেন প্রবেশ করতে পারে। ইনফেকশন শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা সেপসিস (ব্লাড ইনফেকশন) সৃষ্টি করতে পারে।

2. দেহের তরল ভারসাম্যের সমস্যা

বার্নের ফলে শরীর থেকে প্রচুর তরল বেরিয়ে যেতে পারে, বিশেষ করে দ্বিতীয় বা তৃতীয়-ডিগ্রি বার্নের ক্ষেত্রে। এতে শরীরের তরল এবং ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাওয়া, ডিহাইড্রেশন এবং শক হতে পারে।

3. শক (Shock)

শক হল এমন একটি অবস্থা যেখানে শরীরের রক্ত চলাচল যথেষ্ট নয়। বার্নের কারণে রক্তনালীগুলির ক্ষতি এবং তরল হারানোর ফলে শক হতে পারে, যা জীবন-threatening হতে পারে।

4. হাইপোথার্মিয়া (Hypothermia)

বার্নের কারণে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে শরীর তাপমাত্রা ঠিক রাখতে পারে না। হালকা থেকে মাঝারি বার্নের ক্ষেত্রে তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, এবং হাইপোথার্মিয়া হতে পারে।

5. পেসেন্টের শ্বাস প্রশ্বাস সমস্যা

যদি মুখ, গলা বা শ্বাসনালীতে বার্ন হয়, তবে শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট, হাঁপানি, এবং শ্বাসনালীর অস্বাভাবিক অবস্থান তৈরি হতে পারে, যা জীবন-সংকটাপন্ন হতে পারে।

6. স্কার ফর্মেশন (Scar Formation)

তৃতীয়-ডিগ্রি বা গভীর বার্নের পর স্কার ফর্মেশন হতে পারে, যা চিরকালীন শারীরিক অক্ষমতার কারণ হতে পারে এবং রোগীর চলাফেরায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

7. অঙ্গ সংক্রান্ত সমস্যা

বার্নের ফলে যে অংশের ক্ষতি হয়, সেখানে অঙ্গের কার্যকারিতা হ্রাস পেতে পারে, যেমন হাত, পা বা অন্যান্য শরীরের অংশ। এটা দীর্ঘমেয়াদী অক্ষমতা সৃষ্টি করতে পারে।

8. মানসিক বা মানসিক চাপ (Psychological Stress)

গুরুতর বার্নের রোগীরা মানসিক চাপ, উদ্বেগ, হতাশা বা PTSD (পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার) এর শিকার হতে পারেন, বিশেষত যদি দেহে ব্যাপক ক্ষতি হয় বা দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসা প্রয়োজন হয়।

9. অন্যান্য শারীরিক সমস্যা

বার্ন রোগী তাদের শক্তি হারায়, যা তাদের অন্যান্য শারীরিক সমস্যাকে আরও জটিল করতে পারে, যেমন হার্ট, কিডনি বা অন্যান্য অঙ্গের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

এগুলো সবই বার্ন রোগীর জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি। যথাযথ চিকিৎসা ও সতর্কতা ব্যবস্থা অবলম্বন করলে এই ঝুঁকিগুলোর প্রতিকার সম্ভব।

Treatment management:-

বার্নের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত মেডিকেশন, ফার্মাকোলজি, এবং ড্রাগস নিম্নরূপ:

1. অ্যানালজেসিকস (Pain Relievers)

মেডিকেশন: বার্নের রোগীকে তীব্র ব্যথা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য পেইন রিলিভার দেওয়া হয়।

Generic Name:

Paracetamol (Acetaminophen): হালকা থেকে মাঝারি ব্যথার জন্য।

Ibuprofen: প্রদাহ এবং ব্যথা কমাতে সহায়তা করে।

Morphine: তীব্র ব্যথার জন্য (বিশেষত তৃতীয়-ডিগ্রি বার্নের ক্ষেত্রে)।

ফার্মাকোলজি: এসব ওষুধ প্রাথমিকভাবে স্নায়ুকোষগুলোতে ব্যথার সংকেত পাঠানো কমিয়ে দেয়। কিছু ওষুধ যেমন Morphine, সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমে কাজ করে এবং উচ্চমাত্রার ব্যথাকে নিয়ন্ত্রণ করে।

—

2. এন্টিবায়োটিক্স (Antibiotics)

মেডিকেশন: বার্নের কারণে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হলে ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ প্রতিরোধে এন্টিবায়োটিক্স দেওয়া হয়।

Generic Name:

Amoxicillin: সাধারণ ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন প্রতিরোধে ব্যবহৃত।

Ceftriaxone: গুরুতর সংক্রমণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত।

Vancomycin: স্টাফ ইনফেকশন বা MRSA (মেথিসিলিন রেজিস্ট্যান্ট স্ট্যাফিলোককাস অরিয়ুস) এর বিরুদ্ধে কার্যকরী।

ফার্মাকোলজি: এই সব এন্টিবায়োটিক শরীরের ভিতরে সংক্রমণ রোধ করে, ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ও বিস্তার কমায়।

—

3. টপিক্যাল অ্যান্টিসেপ্টিকস (Topical Antiseptics)

বার্নের কারণে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই অ্যান্টিবায়োটিক ক্রিম এবং ইন্ট্রাভেনাস অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়:

সিলভার সালফাডিয়াজিন (Silver Sulfadiazine): এটি একটি জনপ্রিয় অ্যান্টিবায়োটিক ক্রিম যা বার্ন সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়।

নিওমাইসিন সলফেট (Neomycin Sulfate), ম্যাফেনাইড অ্যাসেটেট (Mafenide acetate) এবং পলিমাইক্সিন বি (Polymyxin B) সমন্বয়ে তৈরি অ্যান্টিবায়োটিক ক্রিম ব্যবহার করা হয় সংক্রমণের ঝুঁকি কমানোর জন্য।

মেডিকেশন: বার্নের আক্রান্ত এলাকা পরিষ্কার করতে এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়।

Generic Name:

Silver Sulfadiazine (Silvadene): বার্নের জন্য সবচেয়ে সাধারণ ওষুধ, যা অ্যান্টিসেপ্টিক হিসেবে কাজ করে।

Mafenide Acetate (Sulfamylon): এটি ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি রোধ করে, বিশেষ করে ত্বকের সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে।

ফার্মাকোলজি: এই ওষুধগুলি ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি বন্ধ করে এবং ক্ষতস্থানে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়।

—

4. হাইড্রেশন এবং ইলেকট্রোলাইট রিপ্লেসমেন্ট (Hydration and Electrolyte Replacement)

মেডিকেশন: বার্নের কারণে শরীর থেকে তরল ক্ষতি হওয়া সঠিকভাবে পূর্ণ করতে স্যালাইন বা অন্যান্য তরল নির্ধারণ করা হয়। Hartman solution

হার্থম্যান সলিউশন (Hartmann Solution):

হার্থম্যান সলিউশন একটি রিঅ্যাকটিভ সলিউশন, যা প্রধানত অক্সিজেন পরিবহনে সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং শরীরে তরল প্রয়োগের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি একটি ইন্ট্রাভেনাস (IV) সলিউশন, যা শরীরের তরল ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং ডিহাইড্রেশন (শরীরের পানি কমে যাওয়া), শক বা অপারেশন পরবর্তী পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয়।

হার্থম্যান সলিউশনের উপাদান:

Sodium Chloride (NaCl): লবণ, যা শরীরে সোডিয়ামের স্তর নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

Potassium Chloride (KCl): পটাশিয়াম, যা শরীরের পটাশিয়ামের স্তর বজায় রাখে।

Calcium Chloride (CaCl2): ক্যালসিয়াম, যা শরীরের পেশী সংকোচন এবং স্নায়ু কর্মে সহায়ক।

Magnesium Sulfate (MgSO4): ম্যাগনেসিয়াম, যা পেশীর কাজ এবং স্নায়ু সংকোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হার্থম্যান সলিউশনের ব্যবহার:

১. ডিহাইড্রেশন: শরীরে পানির অভাব হলে এটি ব্যবহার করা হয়। ২. শক: শক অবস্থায় তরল প্রবাহ বাড়ানোর জন্য। ৩. অপারেশন পরবর্তী চিকিৎসা: রোগী অপারেশনের পর তরল ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ৪. হৃদরোগ: হৃদরোগের সময় তরল ভারসাম্য সঠিক রাখতে সহায়ক। ৫. এলেকট্রোলাইট ডিস্টার্বেন্স: শরীরে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামের অভাব হলে এটি ব্যবহার করা হয়।

সতর্কতা:

হার্থম্যান সলিউশন ব্যবহারের আগে রোগীর কিডনি এবং হার্টের অবস্থার দিকে লক্ষ্য রাখা হয়। এর অতি ব্যবহারে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেমন ফোলাভাব (edema) বা মিনারেল ভারসাম্যের অস্থিরতা হতে পারে।

এটি শরীরের তরল ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, বিশেষত যে রোগীরা শক বা ডিহাইড্রেশন জনিত সমস্যা ভোগে।

Generic Name:

Ringer’s Lactate: শরীরের তরল এবং ইলেকট্রোলাইট পূর্ণ করতে ব্যবহৃত হয়।

Normal Saline (0.9% Sodium Chloride): স্যালাইন তরল, শরীরের তরল ভারসাম্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

And Also used Human Albumin

হিউম্যান অ্যালবুমিন (Human Albumin) বার্ন রোগী ব্যবহার:-

হিউম্যান অ্যালবুমিন একটি প্রোটিন যা প্রধানত লিভার দ্বারা তৈরি হয় এবং এটি রক্তে উপস্থিত থাকে। এটি শরীরে পানি এবং ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, এবং প্লাজমার প্রোটিন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বার্ন রোগীদের ক্ষেত্রে হিউম্যান অ্যালবুমিন ব্যবহারের কিছু প্রধান কারণ হল:

১. প্লাজমা ভলিউম পুনরুদ্ধার (Plasma Volume Restoration):

বার্নের কারণে শরীরের প্লাজমা (রক্তের তরল অংশ) ব্যাপকভাবে নষ্ট হতে পারে, যার ফলে হাইপোভোলেমিক শক (তরল কমে যাওয়া) হতে পারে।

হিউম্যান অ্যালবুমিন রক্তে প্লাজমা ভলিউম বাড়াতে সাহায্য করে, এবং রক্তের তরল অংশের ঘাটতি পূর্ণ করে।

২. প্রোটিন লেভেল পুনরুদ্ধার:

বার্নের কারণে শরীরের প্রোটিনের পরিমাণ কমে যায়, বিশেষত অ্যালবুমিনের পরিমাণ। অ্যালবুমিনের অভাবে হাইپوঅ্যালবুমিনেমিয়া (অ্যালবুমিনের কম পরিমাণ) হতে পারে, যা রক্তের চাপ কমিয়ে দিতে পারে এবং শরীরের অঙ্গগুলোতে তরল জমে যেতে পারে (edema)।

হিউম্যান অ্যালবুমিন শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি পূর্ণ করে এবং রক্তের চাপ বাড়াতে সাহায্য করে।

৩. ইডিমা প্রতিরোধ (Prevention of Edema):

বার্নের ফলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে যাওয়া (edema) হতে পারে, যা রোগীর অবস্থাকে আরও খারাপ করে তোলে।

হিউম্যান অ্যালবুমিন ইডিমা (ফোলাভাব) কমাতে সাহায্য করে, কারণ এটি রক্তের ভেতর জলীয় ভারসাম্য বজায় রাখে এবং শরীরের টিস্যুতে তরল জমা হতে বাধা দেয়।

৪. অক্সিজেন পরিবহন এবং ন্যাচারাল হিলিং সমর্থন:

হিউম্যান অ্যালবুমিন রক্তে অক্সিজেন পরিবহন করে, যা বার্ন রোগীর শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ করতে সহায়ক।

এটি শরীরের সুস্থ হওয়া প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং বার্নের পরবর্তী সময়ে হিলিং প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে।

৫. এনফ্লামেশন এবং ইনফেকশন কমানো (Reducing Inflammation and Infection):

বার্নের পর শরীরে প্রদাহ (inflammation) এবং সংক্রমণ (infection) হতে পারে। হিউম্যান অ্যালবুমিন শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

৬. শক অবস্থায় সহায়তা:

বার্নের পর শক হতে পারে, বিশেষ করে যদি শরীরের তরল ভারসাম্য ব্যাপকভাবে নষ্ট হয়।

হিউম্যান অ্যালবুমিন শক থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে, কারণ এটি রক্তের চাপ বাড়াতে এবং শরীরের তরল ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক।

—

সতর্কতা:

হিউম্যান অ্যালবুমিন ব্যবহার করার আগে রোগীর শরীরের অবস্থা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষত যদি তার কিডনি বা হৃদযন্ত্রের সমস্যা থাকে।

এই চিকিৎসা ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে এবং সঠিক মাত্রায় ব্যবহার করা উচিত।

—

এই কারণে হিউম্যান অ্যালবুমিন বার্ন রোগীদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি চিকিৎসা, যা তাদের সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে এবং শারীরিক দুর্বলতা দূর করে।

ফার্মাকোলজি: এই তরলগুলি শরীরের তরল ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করতে সহায়ক, যাতে ডিহাইড্রেশন, শক বা অন্যান্য জীবাণু সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করা যায়।

—

5. ডিপ্রেশন (Sedation)

মেডিকেশন: কিছু রোগী দীর্ঘ সময় ধরে ব্যথার মধ্যে থাকেন, তাদেরকে শান্ত রাখতে এবং আরাম দিতে সেডেটিভস দেওয়া হয়।

Generic Name:

Lorazepam: একটি উদ্বেগ কমানোর এবং শান্তি প্রদানের ঔষধ।

Midazolam: সাধারণত সেডেশন বা গভীর স্নিগ্ধতার জন্য ব্যবহৃত হয়।

ফার্মাকোলজি: সিডেটিভস সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমে কাজ করে এবং রোগীকে শান্ত রাখে।

—

6. ব্লাড ট্রান্সফিউশন (Blood Transfusion)

মেডিকেশন: যদি রোগী অতিরিক্ত রক্ত হারায়, তবে রক্তের ঘাটতি পূরণ করার জন্য ব্লাড ট্রান্সফিউশন প্রয়োজন হতে পারে।

Generic Name:

Packed Red Blood Cells (PRBC): রক্তের ঘাটতি পূরণ করতে ব্যবহৃত হয়।

ফার্মাকোলজি: রক্ত সংবহন পুনরুদ্ধার করে শরীরের অক্সিজেন সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

—

7. স্কিন গ্রাফটিং (Skin Grafting)

মেডিকেশন: তৃতীয়-ডিগ্রি বার্নের জন্য, বার্ন হওয়া অংশের জন্য স্কিন গ্রাফটিং করা হতে পারে।

ফার্মাকোলজি: স্কিন গ্রাফটিং সাধারণত স্থানীয় অ্যানাস্থেটিকস দিয়ে করা হয় এবং উন্নততর আরোগ্য নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।

—

এই উপরে উল্লেখিত চিকিৎসা পদ্ধতি এবং ওষুধ বার্ন রোগীদের জন্য ব্যবহৃত হয়। চিকিৎসা, রোগীর অবস্থার উপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে, এবং পেশাদার চিকিৎসকের পরামর্শে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

NB:- Burn patient er beche jawa pt er sobcheye vulnerable challenge hosse hypovolemic shock and septicemia hoie mara jawa ….

Raiyyan Tahsan Date:-23-07-2025 Wednesday Time:-12-14-22 Pm

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top