Hello I'm Raiyyan Tahsan
Brand Model and Executive

TC(508).(07).Neurology Case No 19. গুলেন ব্যারি সিনড্রোম

যে কোনো বয়সে গুলেন ব্যারি সিনড্রোম হতে পারে গুলেন ব্যারি সিনড্রোম (জিবিএস) অতি অপরিচিত রোগ। এ রোগে শারীরিক বৈকল্য দেখা দেয়। রোগটির প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশে নেহায়েত কম নয়। যে কোনো বয়সের যে কারও এ রোগ হতে পারে। জিবিএসের মূল কারণ জীবাণুঘটিত হলেও প্রকৃতপক্ষে জীবাণু প্রতিরোধী ইমিউন সিস্টেমের অস্বাভাবিক আচরণের ফলে এ রোগের উৎপত্তি হয়। ‘ক্যাম্পাইলো ব্যাকটর জেজুনি’ দ্বারা আক্রান্ত ‘ডায়রিয়ার রোগী বা ইনফ্লুয়েঞ্জা’ ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত সর্দি-জ্বরের রোগীরা সাধারণত ‘জিবিএস’-এ আক্রান্ত হয়ে থাকে। ডায়রিয়া বা ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বরের প্রায় দুই সপ্তাহ পরে রোগী হঠাৎ ধীরে প্রথমে তার দুই পায়ে দুর্বলতা বোধ করে, যা আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে এবং উপরের দিকে বিস্তার লাভ করে মেরুদণ্ড, দুই হাত, বুকের মাংসপেশি এমনকি মুখের মাংসপেশিতে ছড়িয়ে পড়ে। কখনো কখনো দুর্বলতা এত বেশি হয় যে, রোগী হাত-পায়ের আঙুল সামান্য পরিমাণও নাড়াতে পারে না। বুকের মাংসপেশির দুর্বলতার কারণে শ্বাসকষ্ট হলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটে স্থানান্তর করতে হয়। নতুবা রোগীর মৃত্যু ঘটতে পারে।

জিবিএস রোগীর এত দুর্বলতা সত্ত্বেও সাধারণ অনুভূতি, স্মৃতিশক্তি, পায়খানা-প্রস্রাবের কোনো সমস্যা হয় না এবং রোগী কখনও অজ্ঞান হয়ে যায় না। এসব রোগীকে সবসময় হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হয়। নিউরোলজিস্ট বা স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগের উপসর্গ, শারীরিক পরীক্ষা, এনসিএস নামক স্নায়ুর পরীক্ষা এবং মস্তিষ্কের রস বিশ্লেষণ করে রোগটি নির্ণয় করেন।

রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস, নাড়ির গতি, ব্লাড প্রেসার ইত্যাদির প্রতি সার্বক্ষণিক লক্ষ্য রাখতে হয়। যদি শ্বাসকষ্ট শুরু হয় তবে তাৎক্ষণিকভাবে রোগীকে আইসিইউতে স্থানান্তর করতে হয়। নিয়মিত হাত-পায়ের ব্যায়াম, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রোগীকে দ্রুত সেরে উঠতে সাহায্য করে। এ রোগের নির্দিষ্ট চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং ধনীশ্রেণি ব্যতীত অন্যরা তা গ্রহণ করতে পারে না। প্লাজমাফেরোসিস বা আইভি ইমিউনো গ্লোবিনের খরচ প্রায় ৩ থেকে ১০ লাখ টাকা। কোনো কোনো রোগীর পুরোপুরি আরোগ্য পেতে প্রায় এক বছর লেগে যায়। প্লাজমাফেরোসিস তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল। তবে আইভি ইমিউনোগ্লোবিনের খরচ প্রায় ৩ থেকে ১০ লাখ টাকা। উপসর্গ শুরুর দুই সপ্তাহের মধ্যে এ চিকিৎসা দিতে হয়। এর পরে ইমিউনোগ্লোবিনের কর্যকারিতা থাকে না। জিবিএস এর ক্ষেত্রে সাধারণত প্রায় ৮০ ভাগ রোগী সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করে, ৫-১০ ভাগ রোগী কিছু না কিছু শারীরিক দুর্বলতা স্থায়ীভাবে থেকে যায় এবং প্রায় ৫-৬ ভাগ রোগী মারা যায়।

সাধারণত কোনো ইনফেকশন যেমন ডায়রিয়া বা শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের দুই বা তিন সপ্তাহ পরে জিবিএসএর লক্ষণসমূহ দেখা দেয়। কখনও কখনও ভ্যাকসিন দেওয়ার পরেও জিবিএস হতে পারে। তবে ভয়ের কারণ নেই। অভিজ্ঞতাসম্পন্ন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রাখলে আরোগ্য লাভ সম্ভব।

গুলিয়ান–বারে সিনড্রোম (Guillain–Barré Syndrome, GBS)
একটি তীব্র, সাধারণত স্ব-সীমিত, অটোইমিউন পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি, যা প্রায়ই প্রদাহকভাবে স্নায়ুতন্তুতে মাইলিন শেথ হারিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে হওয়া সেন্সরি ও মোটর দুর্বলতা সৃষ্টি করে।


১। কারণ (Cause)

  • স্ব-উৎপাদিত অটোঅ্যান্টিবডি: শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজের স্নায়ুতে থাকা মাইলিন শেথকে আক্রান্ত করে
  • প্রাক-উদ্দীপক সংক্রমণ
    • Campylobacter jejuni (সর্বাধিক)
    • সাইটোমেগালো ভাইরাস (CMV), ইপস্টাই–বার ভাইরাস (EBV), ভাইরাল ইনফ্লুয়েঞ্জা, জিকা ভাইরাস
    • মাইকোপ্লাজমা নিউমোনিয়া
  • অন্যান্য ট্রিগার
    • কিছু ভ্যাকসিন (দুর্লভ)
    • সার্জারি বা গুরুতর আঘাতের পর শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অতিরিক্ত উদ্দীপনা
    • বিমুক্ত রক্তযন্ত্র (lymphoma, SLE ইত্যাদি অটোইমিউন রোগ)

২। লক্ষণ ও উপসর্গ (Symptoms)

  1. প্রগমিল দুর্বলতা (Ascending weakness)
    1. প্রথমে পায়ের পেশীতে দুর্বলতা, ধীরে ধীরে দুই পায়ে ছড়িয়ে পড়ে
    1. হাত, শ্বাস-প্রশ্বাস (diaphragm) পর্যন্ত অগ্রসর হতে পারে
  2. সংবেদশীলতার সমস্যা
    1. ঝাঁঝানি (tingling), প্যারেস্থেসিয়া (pins-and-needles)
    1. সংবেদনশীলতা লোপ বা কমে যাওয়া
  3. প্রতিবিম্বহীনতা (Areflexia)
    1. গভীর টেন্ডন রিফ্লেক্স (knee jerk, ankle jerk) হ্রাস বা অনুপস্থিত
  4. অটোনমিক ডাইসভাইসফাংশন
    1. রক্তচাপ ওঠানামা, হৃদস্পন্দন রিদম সমস্যা
    1. প্রস্রাব/মলত্যাগ নিয়ন্ত্রণে অসুবিধা
  5. ব্যথা
    1. পিঠ, কোমর, পিঠের পেশীতে বিষক্রিয়া বা তীব্র ব্যথা

৩। নির্ণয় (Diagnosis)

  1. ক্লিনিক্যাল মূল্যায়ন
    1. দ্রুত প্রবল, দুই পাশের দুর্বলতা
    1. রিফ্লেক্স হারানো
  2. ল্যাব পরীক্ষাঃ সিএসএফ (CSF) বিশ্লেষণ
    1. Albumino-cytologic dissociation: উচ্চ প্রোটিন, স্বল্প সেল সংখ্যা
  3. স্নায়ুচালনা পরীক্ষা (Nerve Conduction Study) / ইএমজি
    1. স্নায়ু সংকেত গতি হ্রাস (দেমাইলিনেশন মার্কার)
    1. ফ্ল্যাঙ্কটেল ডিনার্ভেশন পটেনশিয়াল
  4. ইমেজিং (প্রয়োজনে)
    1. এমআরআই: রুটিন কাজে অপ্রয়োজনীয়, তবে শ্বাসকষ্ট/প্যারালিসিস দ্রুতগামী হলে বাদ দেয়নি বোঝার জন্য

৪। ঔষধি ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা (Drug Management & Supportive Care)

ঔষধি/প্রক্রিয়ামাত্রা ও নির্দেশনাটীকা ও মন্তব্য
IVIG (Intravenous Immunoglobulin)0.4 g/kg/দিন × 5 দিনপ্রথম পছন্দ, প্লাজমারিফেরেসের সমপর্যায়ে কার্যকর
Plasmapheresis (Plasma Exchange)4–6 সেশন, প্রতিদিন বা একদিন বাদেIVIG–এর বিকল্প; দ্রুততর রোগমুক্তি
অ্যালজিসিক পেইন Analgesic ম্যানেজমেন্ট
  • Gabapentin 300–900 mg/দিন ভাগে ভাগে
  • Pregabalin 75–150 mg/দিন | স্নায়ুবিষক্রিয়ার ব্যথা নিয়ন্ত্রণে
    | অটোনমিক সাপোর্ট |
  • যথাযথ ফ্লুইড ম্যানেজমেন্ট
  • ইনট্রাভেনাস ভলিউম মনিটর
    | রক্তচাপ/হার্টরেট নিয়ন্ত্রণ |
  • მედিকেশন: β-blockers বা α-agonists প্রয়োজনে

অন্যান্য সাপোর্টিভ:

  • শ্বাসকষ্টের ক্ষেত্রে ভেন্টিলেটরি সাপোর্ট
  • থ্রম্বোপ্রোফাইল্যাক্সিস: DVT রোধে
  • পুষ্টি সাপোর্ট ও ফিজিওথেরাপি: দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের জন্য
  • মনিটরিং: স্বয়ংক্রিয় ডিসফাংশন ও শ্বাস–প্রশ্বাসের অগ্রগতি পর্যবেক্ষন

নোট: যত তাড়াতাড়ি GBS সন্দেহ হয়, তত দ্রুত IVIG বা প্লাজমারিফেরেস আরম্ভ করা উন্নত ফল দেয়। রোগীকে ICU পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি হতে পারে।

Raiyyan Tahsan.Date:-26-05-2025 Monday Time:-11-30-39 Pm

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top