১. রোগীর হাঁটুর ব্যথা অসহনীয়। তাকে নন-স্টেরয়ডাল এন্টি ইনফ্ল্যামেটরি (পেইন কিলার) ওষুধ খেতেই হয়। এ ধরনের রোগীর ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণের জন্য যদি ACEi বা ARB দেওয়া হয়, তাহলে উভয় ওষুধের সম্মিলিত ক্রিয়ায় ACEi বা ARB-এর কার্যকারিতা কমে আসবে।
এক্ষেত্রে ডাইইউরেটিক্স ভালো ওষুধ। এছাড়া থায়াজাইড ডাইইউরেটিক্সের একটি সুবিধা হলো এটি ক্যালশিয়ামকে ধরে রাখে। ফ্র্যাকচারের সম্ভাবনা কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে।
২. ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে প্রথম পছন্দ এ সি ই- ইনহিবিটর বা এনজিওটেনসিন রিসেপ্টর ব্লকার। সিস্টেমিক লুপাস ইরাইথেমেটাসের ক্ষেত্রেও একই পছন্দ। উভয়ক্ষেত্রে প্রোটিনইউরিয়া গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর।
৩. রোগীর কাশি। কমে না কিছুতেই। লাং ফাংশান টেস্ট, এলার্জেন টেস্ট, সেরাম আইজি-ই, এক্সরে, এইচআরসিটি পর্যন্ত করা হয়ে গেছে।
ব্রঙ্কোডায়ালেটর, এন্টিবায়োটিক সব দেওয়া হয়ে গেছে। তবুও কমে না। অথচ রোগী র্যামিপ্রিল খাচ্ছে। ACEi-এর জন্য তার এই কাশি।
যে রোগীর এই ওষুধের কারণে শুকনো কাশি এক দফা হয়েছিল এবং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, তাকে পরবর্তীতে পুনরায় এই ওষুধ না দেওয়াই শ্রেয়।
৪. রোগী চিকিৎসকের কাছে গিয়েছেন তার পা ফুলে গিয়েছে এই সমস্যা নিয়ে। তার কিডনি, লিভার, থাইরয়েড, হার্টসহ নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলো। কিন্তু সব পরীক্ষার রিপোর্টই স্বাভাবিক।
রোগীরা হাইপারটেনশানের জন্য যেসব ওষুধ পেয়ে থাকে, তার মধ্যে একেবারে উপরের সারিতে আছে এমলোডিপিন। এমলোডিপিনের কমন একটি সাইড ইফেক্ট পা ফুলে যাওয়া বা এঙ্কেল ইডিমা। পরে ধরা পড়লো, এমলোডিপিনের জন্যেই তার এই পা ফোলা।
পুস্তকে লেখা আছে, ১০০ জন ব্যক্তি এমলোডিপিন খেলে ১৫-২০ জনের পা ফোলার সমস্যা হতে পারে। তবে আমাদের দেশে প্র্যাক্টিক্যালি এই পার্সেন্টেজ আরও বেশি।
ডোজ যতো বাড়বে এই ধরনের ওষুধের এঙ্কেল ইডিমা করার সম্ভাবনাও বাড়বে। যে রোগীর এই ওষুধের কারণে পূর্বে এঙ্কেল ইডিমা হয়েছিল তাকে পুনরায় আবার এই ওষুধ শুরু না করাই শ্রেয়।
৫. বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশান, ডিজলিপিডেমিয়া ট্রিট করার চেয়ে ঐ বয়স্ক মানুষটিকে ট্রিট করার দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে কন্সটিপেশান একটি কমন সমস্যা।
ক্যালশিয়াম চ্যানেল ব্লকার কন্সটিপেশানের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে রোগীকে যথাযথ খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে বলা, প্রয়োজনে এ ধরনের ওষুধ প্রেসক্রাইব না করা, একান্ত দিতে হলে কম ডোজে দেওয়া, এসব বিষয় খেয়াল রাখলে উত্তম।
৬. ডাইইউরেটিক্স জাতীয় ওষুধের একটি বৈশিষ্ট্য হলো এরা ইলেক্ট্রোলাইটস ইমব্যালেন্স করতে পারে। বিশেষত হাইপোন্যাট্রেমিয়া ও হাইপোক্যালেমিয়া।
এমন অনেক রোগী আছেন যারা ডাইইউরেটিক্স পেয়ে হাইপোন্যাট্রেমিয়া ডেভেলপ করে অজ্ঞান হয়ে হসপিটালে এসেছেন। এমনও হয়েছে তাদের ৩% সোডিয়াম ক্লোরাইড দিয়ে সোডিয়াম র্যাপিড কারেকশান করে পন্টাইন মায়েলিনোলাইসিস পর্যন্ত হয়ে গেছে।
হাইপারটেনশানের ওষুধ খায় এমন রোগী যদি ফ্যাটিগ, শারিরীক দুর্বলতার কথা বলে, তার ওষুধের তালিকাটি চেক করা উচিত। যদি সেখানে কোনো ডাইইউরেটিক্স থাকে তাহলে সেরাম ইলেক্ট্রোলাইটস পরীক্ষাটি করা প্রয়োজন।
ইলেক্ট্রোলাইটস ইমব্যালেন্স থাকলে সম্ভব হলে ওষুধটি বন্ধ করে দেওয়া যেতে পারে, একান্ত সম্ভব না হলে ডোজ কমিয়ে নিয়ে আসা যেতে পারে।
৭. বিটা ব্লকার ওষুধটিও রোগীর ফ্যাটিগের জন্য দায়ী হতে পারে। এছাড়া ইরেক্টাইল ডিজফাংশান এর খুবই কমন একটি সাইড ইফেক্ট।
বিশেষ করে ইয়াং পেশেন্টরর ক্ষেত্রে এই হিস্ট্রিটি নেয়া জরুরি। এখন ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত ইয়াং বলা হয়।
৮. হাইপারটেনশানের ওষুধ প্রতিদিনই খেতে হয়। এর কিছু ওষুধ বেশ ব্যয়বহুল, অনেকেরই সাধ্যে কুলায় না।
এমন ওষুধ না দেওয়াই শ্রেয় যে ওষুধ রোগী ২/৩ সপ্তাহ কষ্টেসৃষ্টে খেয়ে কিনতে না পেরে খাওয়া বাদই দিয়ে দেয়।
রোগীর বেশি ভালো করতে গিয়ে রোগীকে অর্থনৈতিকভাবে অক্ষম করে দেওয়া যাবে না। তার জন্য কম দামি ওষুধটি বাছাই করাই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত।
৯. কিছু কিছু রোগীর চিকিৎসকের কাছে এলে ব্লাড প্রেশার বেশি পাওয়া যায়, অথচ বাসায় মাপলে স্বাভাবিকই আসে। হোম ব্লাড প্রেশারই বেশি প্রাধান্য পাবে।
চিকিৎসক যদি সাময়িকভাবে বেশি পেয়ে থাকেন কিন্তু হাইপারটেনশানের ওষুধ খেয়ে বাসায় তার ব্লাড প্রেশার স্বাভাবিকই থাকে, তার ওষুধের ডোজ বাড়ানো কিংবা নতুন ওষুধ যুক্ত করার ব্যাপারে সাবধানী হওয়া ভালো।
১০. ডাইইউরেটিক্স ব্যবহারের কারণে অনেকের হাইপোক্যালেমিয়া যেহেতু হয়, সেক্ষেত্রে তাদের ইসিজিতে QT prolongation দেখা যেতে পারে। এখন এই একই রোগী যদি কোনো কারণে এন্টিডিপ্রেসেন্ট বা এন্টিসাইকোটিক ওষুধ যদি খেয়ে থাকে তাহলে QT prolongation হবার সম্ভাবনা আরও অধিক বেড়ে গেলো।
কারণ QT prolongation-এর একটি কারণ এই ওষুধগুলোর ব্যবহার। এখন এই রোগীর যদি কোনো কারণে বমি বা ডায়রিয়া হয়, তাহলে পটাশিয়াম লেভেল আরও কমে যাবে। ফলে QT অনেক বেশি প্রলং হয়ে যেতে পারে।
এর ফলে একটি ভয়াবহ লাইফ থ্রেটেনিং এরিদমিয়া Ventricular tachycardia হবার সম্ভাবনা তৈরি হবে। তাই রোগী আগে থেকেই কী কী ওষুধ খাচ্ছে সেদিকে একবার চোখ বুলিয়ে নেয়াটা ভালো।
বছরখানেক ধরে লেখা হাইপারটেনশান সিরিজের ১৭টি লেখার মধ্যে এটি ২য় পর্ব।
Raiyyan Tahsan. Date:-21-05-2025 Wednesday Time:-04-37-45 Pm