Hello I'm Raiyyan Tahsan
Brand Model and Executive

(29).Pharmacology Case No 35.Sleeping Pill

ঘু্‌মের ঔষধ আপনার জন্য হতে পারে ভয়ংকর রোগের কারণ!!!

গবেষণায় দেখা গেছে —

ঘুমের ঔষধ মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালিতে প্রভাব ফেলে এবং প্রাকৃতিক ঘুমের সময় মস্তিষ্ক যেভাবে বর্জ্য পরিষ্কার করে, সেই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।

আমাদের মস্তিষ্ক, অন্যান্য অঙ্গের মতো স্বাভাবিক লসিকা নালী (lymphatic vessels) ব্যবহার করে বর্জ্য অপসারণ করতে পারে না। এর পরিবর্তে, এটি গ্লিম্ফাটিক ক্লিয়ারেন্স”(glymphatic clearance)নামক একটি অনন্য পদ্ধতির উপর নির্ভর করে, যা সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড ব্যবহার করে অ্যামিলয়েড বেটার মতো বিষাক্ত পদার্থ দূর করে — যা অ্যালঝেইমার রোগের (Alzheimer’s disease) সঙ্গে সম্পর্কিত। এই প্রক্রিয়াটি সবচেয়ে সক্রিয় থাকে নন-রেম (non-REM) ঘুমের সময় এবং এটি নিয়ন্ত্রিত হয় নরএপিনেফ্রিন (norepinephrine) নামক হরমোন দ্বারা।

[ Non REM মানে-> Non Rapid Eye Movement এটি মূলত গভীর ঘুমের অংশ, এবং এই সময় আমাদের শরীর ও মস্তিষ্ক বিশ্রাম ও পুনর্গঠনের কাজ করে]

Non-REM ঘুমের তিনটি ধাপ থাকে:

ধাপ ১ (Stage 1): হালকা ঘুম, যেখানে আপনি জেগে থাকা ও ঘুমের মাঝামাঝি অবস্থায় থাকেন। সহজেই জাগা যায়।

ধাপ ২ (Stage 2): শরীরের তাপমাত্রা কমে যায়, হৃদস্পন্দন ধীর হয়, এবং ঘুম আরও গভীর হয়।

ধাপ ৩ (Stage 3): গভীর ঘুম বা slow-wave sleep (SWS)। এই ধাপে শরীর সবচেয়ে বেশি বিশ্রাম পায় এবং মস্তিষ্ক গ্লিম্ফাটিক সিস্টেমের মাধ্যমে বর্জ্য পরিষ্কার করে।

নরএপিনেফ্রিন একজন কন্ডাক্টরের মতো কাজ করে, যা মস্তিষ্কের রক্তনালীগুলোর ছন্দময় সঙ্কোচন ও প্রসারণ পরিচালনা করে। এর ফলে রক্তপ্রবাহ এবং সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইডের ঢেউ সৃষ্টি হয়, যা কার্যকরভাবে মস্তিষ্কের টিস্যু থেকে বর্জ্য অপসারণ করে। তবে এই পরিষ্কার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং অ্যানেসথেশিয়া ও ঘুমের ঔষধের কারণে এটি সহজেই ব্যাহত হতে পারে।

অ্যানেসথেশিয়া পুশ করে ইঁদুরদের নিয়ে করা গবেষণাগুলো নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পরিচালিত হলেও, গ্লিম্ফাটিক ক্লিয়ারেন্স সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা দিতে পারেনি। যখন গবেষকরা প্রাকৃতিকভাবে ঘুমন্ত ইঁদুরদের পর্যবেক্ষণ করেন, তখন দেখতে পান নরএপিনেফ্রিনের স্তর ধীরে ধীরে ওঠানামা করে এবং তা রক্তের পরিমাণের পরিবর্তনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে গ্লিম্ফাটিক সিস্টেম চালায়। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, ঘুমের ঔষধ জোলপিডেম (zolpidem) ব্যবহার করলে নন-রেম ঘুমের সময় বাড়লেও, নরএপিনেফ্রিনের এই ওঠানামা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে মস্তিষ্কের বর্জ্য পরিষ্কার প্রক্রিয়া কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

এই আবিষ্কার দীর্ঘমেয়াদে ঘুমের বড়ির ব্যবহার এবং অ্যালঝেইমার রোগের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। যদিও এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন, বিজ্ঞানীরা এখন এমন নতুন ঘুমের ওষুধ তৈরি করার পরিকল্পনা করছেন, যা মস্তিষ্কের এই গুরুত্বপূর্ণ পরিষ্কার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত না করে কাজ করতে পারে।

Raiyyan Tahsan. Date:-27-04-2025 Sunday Time:-09-34-45 Am

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top