ব্লাড_প্রেশার ,হাইপ্রেশার,
হাইপারটেনশন_ও_হার্ট_অ্যাটাক…
ব্লাড_প্রেশারঃ
ব্লাড হচ্ছে আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষে পুষ্টি সরবরাহকারী উপাদান।
ব্লাড শরিরের মধ্যে কিছু চিকন পাইপের মত নালিকা দিয়ে সারা শরীরে প্রবাহিত হয়, নালিকা গুলিকে
রক্তনালী কিংবা ব্লাড ভেসেল বলা হয়,, সব গুলি
রক্তনালিকার উৎপত্তিস্থল হচ্ছে হার্ট, হার্ট থেকে রক্তনালী সমূহ সারা শরীরে প্রবাহিত হয়….
হার্ট কে যদি আমরা একটি মোটর পাম্পের মত কল্পনা করি, তাহলে রক্তনালী সমূহ হচ্ছে মোটর পাম্পের মুখে
আটকানো ডেলিভারি_পাইপের_মত,
মোটর পাম্পের মুখে আটকানো ডেলিভারি পাইপ দিয়ে যেমন বাগানে পানি দেওয়া হয়, তদ্রুপ
হার্ট নামক পাম্প দিয়ে সারা শরিরে রক্ত সরবরাহ করা হয়, যেখানে হার্ট পাম্পিং মেশিন হিসাবে কাজ করে, রক্তনালী সমূহ ডেলিভারি পাইপের মত কাজ করে….
একজন মানুষের রক্তনালীসমূহ যদি পাশাপাশি রেখে জোড়া লাগানো হয়, তাহলে তা একলক্ষ কিলোমিটার
দীর্ঘ হবে,,, একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের শরীরে প্রায় ৫ লিটার ব্লাড থাকে, এবং এই ৫ লিটার ব্লাড মাত্র এক মিনিটে হার্ট থেকে রক্তনালী হয়ে সারা শরীর ঘুরে আবার হার্টে আসে…..
হার্টবিট
মোটর পাম্প যেমন বিদ্যুত দিয়ে চালু করলে তাতে
কিছু ছোট চাকার ঘুর্ণনের ফলে পানি উঠে আসে,
তদ্রুপ হার্ট নামক পাম্পিং যন্ত্র টা প্রতি মিনিটে
প্রায় গড়ে ৭৫ বার করে প্রকম্পিত হয়, তথা ৭৫ বার হার্ট অটোমেটিক ভাবে সামনের দিকে ধাক্কা খায়, আবার পিছনে ফিরে আসে, অর্থাৎ একবার সংকোচিত হয়, আর এক বার সম্প্রসারিত হয়,
যাকে হার্টবিট বলে. এই ধাক্কার ফলে হার্টের ভিতরের রক্তসমূহ রক্তনালী তে প্রবেশ করে, আবার অন্য রক্তনালী দিয়ে হার্টে ফিরে এসে…..
ব্লাড_প্রেশার :
হার্ট থেকে রক্তসমূহ যখন রক্তনালীতে আসে, তখন
রক্তনালীতে চলাচলের সময় ব্লাডগুলি রক্তনালীর
গায়ে এক ধরনের চাপ তথা প্রেশার প্রয়োগ করে,
একেই ব্লাড প্রেশার বলা হয়, যেমন মোটর পাম্প
থেকে পানি যখন ডেলিভারি পাইপে আসে, তখন
পাইপ গুলি আমরা হাতে নিলে পানির একটি প্রেশার
পাই, ঠিক তদ্রুপ রক্তনালী তে রক্তসমূহ একটি প্রেশার
প্রয়োগ করে তাকে ব্লাড প্রেশার বলে,
একটি মোটর পাম্প যদি পর্যাপ্ত ইলেক্ট্রিসিটি পেয়ে
একই সমান্তরাল ভাবে চলতে থাকে, এবং ডেলিভারি
পাইপ যদি পরিষ্কার থাকে, কোথাও যদি কোন প্রতিবন্ধকতা না থাকে, তাহলে পানির পাম্পিং আর প্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে, ঠিক তদ্রুপ হার্ট যদি সুস্থ থাকে, আর রক্তনালী সমূহে যদি কোন প্রতিবন্ধকতা না থাকে, তাহলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকবে,
রক্ত চলাচল করতে বাড়তি প্রেশার লাগবেনা,
হাইপ্রেশার:
তবে রক্তনালী সমূহ যদি ক্লিয়ার না থাকে, তথা সেখানে যদি চর্বি (কোলেস্টেরল) জমা হয়, কিংবা হার্টের পাম্পিং ক্ষমতা যদি বেড়ে যায়, তাহলে রক্তনালীতে
রক্তসমূহ চলাচলের সময় একটি বাড়তি প্রেশার অনুভব করবে, যথা মনে করি, হার্টের পাম্পিং ক্ষমতা মিনিটে ৫ লিটার ব্লাড, এখন যদি বডিতে ব্লাড আর অতিরিক্ত ফ্লুইড যদি জমা হয়ে যায়, তাহলে বেশী ফ্লুইড একই সময়ে রক্তনালিতে স্বাভাবিক ভাবে পরিবাহিত হবার সময় কিংবা রক্ত চলাচলের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাঁধাগ্রস্ত হবে, এবং
রক্ত সঠিক পরিবহনের জন্য একটি বাড়তি প্রেশার
লাগবে, যাকে হাইপ্রেশার কিংবা উচ্চচাপ বলা হয়।
রক্তের এই প্রেশার গুলি প্রেশার পরিমাপক যন্ত্র তথা
স্পিগনোম্যানোমিটার দিয়ে পরিমাপ করা হয়,
হার্ট সংকোচনের (systole) সময় স্বাভাবিক প্রেশার থাকে ১০০-১২০ mmHg
আর হার্টের সম্প্রসারণের সময় স্বাভাবিক প্রেশার থাকে
৬০-৯০ mmHg.
এখন কারো ক্ষেত্রে যদি এই প্রেশারে তারতম্য ঘটে,
তথা প্রেশার যদি ১৪০/৯০ এর উপরে চলে যায়,
তাহলে ইহাকে হাইপ্রেশার বলা হয়, যার
অপর নাম হচ্ছে হাইপারটেনশন।।।
হাইপ্রেশার এর কারন সমূহ:
১। Olg age বা বয়স্কদের হাইপ্রেশার এর চান্স বেশি, কারণ
৷ বয়স বাড়ার সাথে সাথে রক্তনালি গুলি গাড় কিংবা শক্ত
হতে থাকে, তাই সেই নালিকা দিয়ে রক্ত চলাচলের
স্বাভাবিক চাপ বেড়ে যায়, যাকে হাই প্রেশার বলে।
২। মহিলাদের তুলনার পুরুষদের রক্তচাপ বেশি থাকে।
৩। জেনেটিক তথা ফেমিলিগত কারণে অনেকের হাইপ্রেশার
থাকে, তাদের হার্টের আউটপুট বেশি থাকে, এবং
হাইপ্রেশার হয়।
Age, sex, and Genetic এই তিনটা কারণের মধ্যে আমাদের কোনো হাত থাকেনা, কিংবা আমরা চাইলেও এইটা পরিবর্তন করতে পারিনা, এই জন্য এ-ই তিনটা কারণ কে
Non Modifiable Risk factor for Hypertension বলে।
হাইপারটেনশন এর আরো কিছু কারণ আছে, যাকে ইচ্ছা করলে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, তাকে Modifiable risk factor for Hypertension বলে।
নিম্নে একটা তালিকা দেওয়া হলো, এইসব কারণে যদিও হাইপ্রেশার হয়, তবে তা নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব
১। ধুমপান, কারণ হচ্ছে সিগারেট এর মধ্যে নিকোটিন
নামক এক প্রকার ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ থাকে, যা
LDL cholesterol নামক একপ্রকার চর্বিকে রক্তনালিতে
আটকিয়ে রাখে, এতে করে রক্তনালি সমূহ সরু হয়ে যায়
, শক্ত হয়ে যায়, ইলাস্টিসিটি কমে যায়, এবং রক্ত সঞ্চালনে
বাধাগ্রস্ত হয়, যার কারণে রক্তচাপ বেড়ে যায়।
২। অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাবার গ্রহন
যথা, গরুর গোস্ত, খাঁশি, হাঁস, তৈলাক্ত খাবার এবং ডিম
ইত্যাদি। এতে করে রক্তে কোলেস্টেরল কিংবা চর্বি এর
পরিমান বৃদ্ধি পায়, এবং তা রক্তনালির গায়ে জমা হয়ে
রক্তনালী সরু হয়, এবং রক্ত সঞ্চালনে বাধাগ্রস্ত হয়।
৩। অ্যালকোহল গ্রহণ
৫। মানসিক চাপ
৬। অতিরিক্ত শারিরীক ওজন
৭। বংশগত কারণ
৮। বয়স (৫৫ বছর পুরুষ) (৪০ মহিলা)
৯।তামাক, জর্দা, চুন,
১০। খাবারে অতিরিক্ত লবন
১১। কিছু হরমোনাল কারণ
১২। কিডনি রোগ
১৩।হাইপারথাইরয়েডিযম
১৪।কুশিং সিন্ড্রোম
১৫। অ্যাথারোস্ক্লেরোসিস_ডিজঅর্ডার
হাইপারটেনশন_এর_প্রকারভেদ_উপসর্গ_জটিলতা, প্রতিকার
উপরে আমরা জেনেছি, যদি রক্তচাপ ১৪০/৯০ mmHg এর বেশি হয়, তবে তাকে হাই ব্লাড প্রেশার হিসাবে চিহ্নিত করা হয়.
হাই প্রেশার বা হাইপারটেনশনকে আবার তিনটি গ্রেডে ভাগ
করা হয়,
যথা গ্রেড-১, যদি সিস্টোলিক প্রেশার ১৪০-১৫৯ mmhg
আর ডায়াস্টোলিক প্রেশার যদি ৯০-৯৯ mmHg হয়,
তবে এইটা গ্রেড ১ হাইপারটেনশন, যাকে মাইল্ড হাইপারটেনশন ও বলা হয়,
গ্রেড-২ বা মডারেট হাইপারটেনশন।
১৬০-১৭৯/ ১০০-১০৯ ম্মহগ
যদি সিস্টোলিক প্রেশার ১৬০-১৭৯ mmhg
আর ডায়াস্টোলিক প্রেশার যদি ১০০-১০৯ mmHg হয়,
তবে এইটাকে গ্রেড ২ হাইপারটেনশন বা মডারেট হাইপারটেনশন বলে।
গ্রেড-৩ সিভিয়ার হাইপারটেনশন ঃ যদি সিস্টোলিক/ ডায়াস্টোলিক ১৮০/১১০ এর উপরে হয়, তবে তাকে সিভিয়ার হাইপারটেনশন বলে, এইটাকে হাইপারটেনসিভ ক্রাইসিস বা আর্জেন্সিও বলে, ম্যালিগন্যান্ট হাইপারটেনশন নামেও চিহ্নিত করা হয়, আবার এই পরিমান প্রেশারের সাথে যদি ব্রেইন স্ট্রোক, কিংবা অন্য কোনো টার্গেট অর্গান ড্যামেজ থাকে, তাহলে এইটাকে হাইপারটেনসিভ ইমার্জেন্সি নামে চিহ্নিত করা হয়।
এই প্রকার হাইপারটেনশন খুবই খারাপ, দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে হার্ট অ্যাটাক, ব্রেইন স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
উচ্চরক্তচাপ বা হাইপ্রেশারের উপসর্গঃ
১। মাথা ব্যাথা
২। গাঁড় ব্যাথা, সাধারণত বাম পাশে বাম বাহু থেকে উপরের
দিকে গাঁড়ে ব্যাথা করবে।
৩।চোখে ঝাপসা দেখা।
৪। বুকে ব্যাথা, যাকে অ্যানজাইনা বলে।
৫।মাথা ঘোরানো
৬।নাক দিয়ে রক্ত পড়া,
৭।শ্বাসকষ্ট হওয়া
৮।বুক ধড়পড় করা।
৯।অবসাদ লাগা।
১০।ঘুম কম হওয়া।।
জটিলতাঃ
হাইপ্রেশার এর সবচেয়ে বড় জটিলতা হচ্ছে হার্ট অ্যাটাক এবং ব্রেইন স্ট্রোক, প্রায় প্রতি বছর গ্লোবাল ডেথ এর ৩৩% হার্ট অ্যাটাক কিংবা ব্রেইন স্ট্রোক করে মারা যায়, যাদের অনেকেই Undiagnosed থাকে, তাদের যে হাইপ্রেশার ছিলো, তাও তাদের জানা থাকেনা, তাই দেখা যায়, হঠাৎ করে বুকে ব্যাথা উঠে পড়ে যায়, এবং কয়েক ঘন্টার মধ্যে মারা যায়, হার্ট অ্যাটাক কিভাবে হয়, তা নিয়ে পর্যায়ক্রমে আলোচনা হবে।
অন্যান্য জটিলতা ঃ
১।বুকে অসহনীয় ব্যাথা বা unstable angina
২। ক্রনিক কিডনি ডিজিজ
৩।ভাস্কুলার ডিজিজ ইত্যাদি।
প্রতিরোধঃ
১।ধুমপান থেকে বিরত থাকা।
২।অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার থেকে বিশেষ করে গরুর গোশত খাবার থেকে বিরত থাকা
৩।লবন কম খাওয়া
৪। BMI ২৪ এর মধ্যে রাখা তথা ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখা।
৫। নিয়মিত ব্যায়াম করা
৬। প্রচুর শাকসবজী খাওয়া বা ফাইবার খাওয়া
৭। কাচা ফলমূল খাওয়া।
৮। ডায়াবেটিস থাকলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখা।
Raiyyan Tahsan Date:26-01-2025 Sunday Time:11-50-55PM
- TC(1487).(56). General Medicine Department Case No (14): Presumed Treated Hypertension and Type 2 Diabetes with Possible Upper-GI Dyspepsia/Dysmotility and Cardiovascular Risk Management (1 Prescription + 0 Reports + 0 Supporting Images).5432
- TC(1486).(02). Dermatology Department Case No 107:- Suspected Superficial Dermatophytosis with Possible Coexisting Allergic Rhinitis: Clinical Diagnosis, Prescription Analysis and Evidence-Based Management (1PR+0RE+0IMG)4433
- TC(1485).(02). Dermatology Department Case No (106): Undifferentiated Genital Ulcer Disease with Associated Skin Rash and Generalized Weakness Suspected Syphilis versus Genital Herpes; Possible Secondary Bacterial Infection (1 PR+ 0RE + 0Img)7799
- TC(1484).(09).Obstetrics & Gynecology Case No 60:-High-Risk Pregnancy with History of Two Preterm Deliveries and Two Neonatal Deaths: Diagnosis, Drug Safety and Evidence-Based Management(1PR+0RE+0IMG)8090
- TC(1483).(09). Gynecology Department Case No. (59): Physician-Documented Mastitis with Fever — Possible Inflammatory or Bacterial Mastitis; Breast Abscess and Dengue Fever to Be Excluded (1Prescription + 0Reports + 0Images)0909