চিকিৎসা প্রয়োজন হলেও যে সঠিক চিকিৎসা সবার ভাগ্যে জোটে না—আজকের একটি ঘটনা শেয়ার করি।
আলহামদুলিল্লাহ, আজ সোমবার গাজীপুর কোনাবাড়ী প্রথম চেম্বার করলাম। ৫ দিন বয়সী নবজাতক শিশুর বিলিরুবিন ২৩.৬ mg/dL।
নবজাতকের জন্ডিস খুব সাধারণ একটি বিষয়। কিন্তু সব জন্ডিস সাধারণ নয়। মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে বিলিরুবিন মস্তিষ্কের পর্দা অতিক্রম করে মস্তিষ্কে জমা হতে পারে এবং স্থায়ীভাবে মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে পারে। এমনকি শিশুর ভবিষ্যৎ জীবনও নষ্ট করে প্রতিবন্ধী করে দিতে পারে।
এই শিশুটির ক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় ফটোথেরাপি শুরু করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু বাচ্চার ফুফুর সিদ্ধান্ত হলো—হাসপাতালে ভর্তি করানো হবে না, গ্রামে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হবে।
গ্রামে নিয়ে গিয়ে কী করবে, সেটা আমরা খুব ভালো করেই জানি।
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, অনেক সময় পরিবার মনে করে, “অমুকের বাচ্চারও তো জন্ডিস হয়েছিল, কিছু হয়নি।”
কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানে নিজের বাচ্চার ঝুঁকি অন্য ১০০০টা বাচ্চার সঙ্গে তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।
ধরুন, ১০০০ জন শিশুর মধ্যে ৯৯৯ জন সামান্য জন্ডিস নিয়ে ভালো হয়ে গেল। কিন্তু আপনার শিশুটিই যদি সেই একজন হয়, যার জন্ডিস থেকে মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি হয়ে গেল—তখন দায়টা কে নেবে?
কেউই না।
শেষ পর্যন্ত সেই শিশুটিকেই সারাজীবন এর বোঝা বহন করতে হবে। আর বাবা-মাকে বয়ে বেড়াতে হবে আজীবনের আফসোস।
আমার বড় ছেলেরও জন্মের পর জন্ডিস হয়েছিল। তাকেও দুইদিন ফটোথেরাপি দিতে হয়েছিল। তাই নবজাতকের জন্ডিসকে আমি কখনোই “এটা এমনিতেই ভালো হয়ে যাবে” বলে অবহেলা করার বিষয় মনে করি না। জন্ডিসের মাত্রা বেশি হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করবেন।
Md.Rafiqul Islam Lipu.Date:-17-09-2026 Thursday Time:-04-37-25 Pm