Hello I'm Raiyyan Tahsan
Brand Model and Executive

(625).(07).Neurology Case No 36.(Bilateral Chronic subdural hematoma)

মস্তিষ্কের দুই পাশেই রক্তক্ষরণ (হেমোরেজ).      

Definition:-

বাইলোটারাল ক্রনিক সাবডিউরাল হেমাটোমা (Bilateral Chronic Subdural Hematoma) হল মস্তিষ্কের চারপাশে রক্ত জমে যাওয়ার একটি অবস্থান যেখানে দুইটি (বাইলোটারাল) পক্ষের মস্তিষ্কের তলদেশে দীর্ঘ সময় ধরে রক্ত জমে থাকে। এটি সাধারণত মাথায় আঘাত, বিশেষ করে মৃদু আঘাতের পরে ঘটে, এবং তা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে পারে, মস্তিষ্কের চাপ বাড়াতে পারে এবং স্নায়ু সমস্যার কারণ হতে পারে। ক্রনিক সাবডিউরাল হেমাটোমা সাধারণত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে এবং রোগী এতে শারীরিক বা মানসিক লক্ষণ অনুভব করতে পারে।

Causes:-

বাইলোটারাল ক্রনিক সাবডিউরাল হেমাটোমার মূল কারণগুলি হলো:

1. মাথায় আঘাত: বিশেষ করে মৃদু আঘাত, যেমন একটি ছোট পতন বা দুর্ঘটনার ফলে, যা মাঝে মাঝে গুরুতর উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে না এবং দীর্ঘ সময় পর হেমাটোমা তৈরি হতে পারে।

2. বয়স: বৃদ্ধ মানুষের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়, কারণ তাদের মস্তিষ্কের আকার হ্রাস পায় এবং মস্তিষ্কের চারপাশে কোষের পরিমাণ কমে যায়, ফলে রক্ত সঞ্চিত হতে সহজ হয়।

3. অ্যান্টিকোগুলান্ট থেরাপি (Blood Thinners): যাদের রক্ত পাতলা করার ঔষধ ব্যবহৃত হয় (যেমন ওয়ারফারিন বা অ্যাসপিরিন), তাদের মধ্যে সাবডিউরাল হেমাটোমা হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

4. আলকোহল ব্যবহার: দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত মদ্যপান মস্তিষ্কের রক্তনালী দুর্বল করে ফেলতে পারে, যার ফলে হেমাটোমা হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

5. গুরুতর শারীরিক সমস্যা বা রোগ: যেমন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, বা স্নায়ুবিক রোগ, এগুলিও এই সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

6. ডিপ্রেসিভ বা স্নায়ুবিক সমস্যা: দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা মানসিক আঘাত (যেমন মস্তিষ্কের আঘাত) হেমাটোমা সৃষ্টি করতে পারে।

7. বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচার: মস্তিষ্কে আগের কোন অস্ত্রোপচার বা ট্রমা থাকলে সাবডিউরাল হেমাটোমার সৃষ্টি হতে পারে।

Symptoms:-

বাইলোটারাল ক্রনিক সাবডিউরাল হেমাটোমার কিছু সাধারণ লক্ষণ বা উপসর্গ হতে পারে, যেগুলি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে:

1. মাথাব্যথা: এটি সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গ, যা মাঝে মাঝে তীব্র হতে পারে এবং দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

2. মানসিক অবস্থা পরিবর্তন: যেমন বিভ্রান্তি, মনোযোগের অভাব, বা স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা। কিছু রোগী আরও অস্থির বা চিন্তা ভাবনায় ভোগেন।

3. অন্তরঙ্গতা বা দৃষ্টি সমস্যা: দুই চোখের মধ্যে সমন্বয় নষ্ট হতে পারে, এবং দৃষ্টি ঝাপসা বা দ্বৈত দৃষ্টি হতে পারে।

4. মাথা ঘোরা বা ভারসাম্য হারানো: চলাচলে অসুবিধা, হোঁচট খাওয়া বা হাঁটতে সমস্যা হতে পারে।

5. উচ্চ রক্তচাপ এবং নাড়ির গতি বৃদ্ধি: হেমাটোমার কারণে মস্তিষ্কের চাপ বাড়লে এসব উপসর্গ হতে পারে।

6. প্যারালিসিস বা শক্তিহীনতা: এক পাশের হাত বা পা শক্তিহীন বা প্যারালাইজড হতে পারে।

7. উলটানো বা বমি হওয়া: মস্তিষ্কে চাপ বাড়লে বমি বা বমির অনুভূতি দেখা দিতে পারে।

8. স্লোপিং বা অস্বাভাবিক মেজাজ: রোগী বিষণ্ন বা অবসন্ন অনুভব করতে পারেন, এবং আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে।

9. ঘুমের সমস্যা: অতিরিক্ত তন্দ্রাচ্ছন্নতা বা ঘুমের সময়ে সমস্যা হওয়া।

এই উপসর্গগুলি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে পারে, এবং কখনও কখনও দীর্ঘ সময় পর মনে হতে পারে, বিশেষ করে যাদের মৃদু আঘাত হয়েছে।

Clinical investigation:-

বাইলোটারাল ক্রনিক সাবডিউরাল হেমাটোমার (Chronic Subdural Hematoma) নির্ণয়ের জন্য কিছু ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা এবং ল্যাবরেটরি টেস্টের প্রয়োজন হতে পারে। এখানে তাদের বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হলো:

1. ক্লিনিক্যাল পরীক্ষাগুলি:

মস্তিষ্কের নিউরোলজিক্যাল পরীক্ষা: রোগীর মনোভাব, স্মৃতি, এবং অন্যান্য স্নায়ুবিক কার্যকলাপ পরীক্ষা করা হয়, যেমন:

শক্তি পরীক্ষা (সাবধানতার সঙ্গে শরীরের একপাশে শক্তি পরীক্ষা করা)

সমন্বয় (কোঅর্ডিনেশন) পরীক্ষা

স্নায়ু প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা (যেমন পাটেলা রিফ্লেক্স)

গবেষণা (Observation): মাথাব্যথা, স্লurring, এবং অন্যান্য ক্লিনিক্যাল লক্ষণগুলি পর্যবেক্ষণ করা।

2. ইমেজিং টেস্ট (Imaging Tests):

কম্পিউটেড টোমোগ্রাফি (CT) স্ক্যান:

এটি সাবডিউরাল হেমাটোমা সনাক্ত করতে সবচেয়ে প্রভাবশালী পরীক্ষা। ক্রনিক সাবডিউরাল হেমাটোমা সাদা রঙের হিসাবে দেখা যায় এবং এটি মস্তিষ্কের চারপাশে রক্ত জমে থাকার প্রমাণ দেয়।

এই পরীক্ষা মস্তিষ্কের ভিতরের চাপ এবং রক্ত জমার পরিমাণ নির্ধারণে সহায়ক।

ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স ইমেজিং (MRI):

যদি CT স্ক্যান পর্যাপ্ত না হয়, তবে MRI করা যেতে পারে। এটি সঠিকভাবে রক্ত জমার বয়স এবং অবস্থান নির্ধারণ করতে সাহায্য করে, এবং এটি মস্তিষ্কের অন্যান্য ক্ষতি চিহ্নিত করতে সাহায্য করে।

MRI স্ক্যান মস্তিষ্কের ভেতরের অন্যান্য টিস্যুর ক্ষতি বা চাপে থাকা অংশও নির্দেশ করতে পারে।

3. ল্যাবরেটরি পরীক্ষা (Laboratory Tests):

রক্ত পরীক্ষা (Blood Tests):

প্রোট্রামিন সময় (Prothrombin Time): এটি রক্তের ক্ষরণের সময় পরিমাপ করে। যদি রোগী অ্যান্টিকোগুলান্ট থেরাপি ব্যবহার করে থাকে, তবে এই পরীক্ষাটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

পারকিনস-স্টোকার সময় (Activated Partial Thromboplastin Time, aPTT): এটি রক্তে কোয়াগুলেশন (রক্ত জমা হওয়া) পদ্ধতি পরিমাপ করে। এটি দীর্ঘ সময় ধরে অ্যান্টিকোগুলান্ট ব্যবহারকারী রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয়।

কম্প্লিট বেড কাউন্ট (CBC): রক্তে সাদা রক্তকণিকা, লাল রক্তকণিকা এবং প্লাটিলেটের পরিমাণ পরীক্ষা করা হয়, যা কোনো ইনফেকশন বা অতিরিক্ত রক্তপাতের ইঙ্গিত দিতে পারে।

4. অন্য পরীক্ষাগুলি:

নিউরোসাইকোলজিক্যাল মূল্যায়ন (Neuropsychological Assessment):

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা এবং স্নায়ু সমস্যা মূল্যায়ন করা হয়, যেমন স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং দৈনন্দিন কাজের জন্য অন্যান্য কার্যক্ষমতা।

ইলেকট্রোএনসেফালোগ্রাফি (EEG):

যদি রোগী সিজারের সমস্যা বা আচরণগত পরিবর্তন দেখায়, তবে EEG করা হতে পারে, যা মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ পরিমাপ করে।

5. ক্লিনিক্যাল রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট:

রোগীর বয়স, আঘাতের ইতিহাস, অতিরিক্ত রক্তপাত বা অ্যান্টিকোগুলান্ট ব্যবহার, এবং অন্যান্য নির্ণয় সাহায্যকারী উপসর্গের উপর ভিত্তি করে চিকিৎসক সাধারণত রোগীর অবস্থার গুরুত্ব নির্ধারণ করে।

এই পরীক্ষাগুলি রোগীকে নির্ভুলভাবে নির্ণয় করতে সাহায্য করে, যাতে তারা উপযুক্ত চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

Treatment management:-

বাইলোটারাল ক্রনিক সাবডিউরাল হেমাটোমার (Chronic Subdural Hematoma) চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থাপনা এবং ঔষধ প্রয়োগ করা হয়। এখানে চিকিৎসার প্রধান দিকগুলি এবং ঔষধ ব্যবহারের বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

1. চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা:

1.1. অবজারভেশন (Observation):

কিছু রোগী যাদের হালকা বা কম লক্ষণ থাকে, তাদের কেবল পর্যবেক্ষণ করা হতে পারে।

যদি স্নায়ুবিক অবস্থা বা উপসর্গ গুলি ধীরে ধীরে খারাপ না হয়, তবে কোন ইনভেসিভ চিকিৎসা না-ও লাগতে পারে।

নিয়মিত CT বা MRI স্ক্যানের মাধ্যমে অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হতে পারে।

1.2. অস্ত্রোপচার (Surgical Intervention):

ক্রেনিওটোমি বা ক্রেনিওস্টমি: যদি হেমাটোমা বড় বা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং রোগীর অবস্থার অবনতি হচ্ছে, তবে অস্ত্রোপচার করতে হতে পারে। এতে মস্তিষ্কের উপর একটি ছোট আঘাত তৈরি করে জমে থাকা রক্ত অপসারণ করা হয়।

ড্রেনেজ (Drainage): সাবডিউরাল হেমাটোমা থেকে রক্ত বের করতে একটি ড্রেন সেট করা হতে পারে। এটি হেমাটোমার পরিমাণ কমাতে এবং মস্তিষ্কের চাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

2. ঔষধ ব্যবস্থাপনা (Medication Management):

2.1. অ্যান্টিকোগুলান্ট থেরাপি বন্ধ করা:

যদি রোগী অ্যান্টিকোগুলান্ট (Blood Thinners) ব্যবহার করে থাকে, তবে সেগুলি বন্ধ করা হতে পারে। বিশেষ করে, যাদের ওয়ারফারিন বা অ্যাসপিরিন ব্যবহৃত হয়, তাদের রক্ত জমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী, চিকিৎসক এটির পরিবর্তে অন্য কোনো চিকিৎসা প্রস্তাব করতে পারেন।

2.2. অ্যান্টি-এডেমা (Anti-edema) বা স্টেরয়েডস (Steroids):

ডেক্সামেথাজোন (Dexamethasone) বা প্রেডনিসোলোন (Prednisolone) ধরনের স্টেরয়েডস মস্তিষ্কের ইনফ্লামেশন কমানোর জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। এটি মস্তিষ্কের চাপ কমাতে এবং মস্তিষ্কের টিস্যুর ফোলা কমাতে সাহায্য করে।

2.3. ইনট্রাক্রানিয়াল চাপ কমানোর জন্য ঔষধ:

যদি রোগী উচ্চ ইনট্রাক্রানিয়াল চাপ (ICP) থেকে ভোগেন, তবে ম্যানিটল (Mannitol) বা হাইপারটনিক সলিউশন ব্যবহৃত হতে পারে, যা মস্তিষ্কে চাপ কমাতে সাহায্য করে।

2.4. অ্যান্টিবায়োটিক (Antibiotics):

যদি হেমাটোমা সংক্রমিত হয়ে থাকে, তবে অ্যান্টিবায়োটিক থেরাপি দেওয়া হতে পারে। সাধারণত, সেপটিক সাবডিউরাল হেমাটোমা থাকলে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়, যাতে ইনফেকশন রোধ করা যায়।

2.5. অপিওয়েড বা পেইন কিলার (Painkillers):

রোগীর মাথাব্যথা এবং শারীরিক অস্বস্তি কমাতে পেইন কিলার দেওয়া হতে পারে। সাধারণত প্যারাসিটামল (Paracetamol) বা আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen) ব্যবহৃত হয়।

3. ফিজিকাল থেরাপি এবং পুনর্বাসন (Physical Therapy and Rehabilitation):

কিছু রোগী যাদের অপারেশন বা ইনজুরি হয়েছে, তাদের জন্য ফিজিকাল থেরাপি প্রয়োজন হতে পারে। এটি গতি, ভারসাম্য, এবং স্নায়ু কার্যকলাপ উন্নত করতে সাহায্য করে।

4. ফলো-আপ এবং পুনঃমূল্যায়ন (Follow-up and Re-evaluation):

চিকিৎসা শুরু হওয়ার পরে, রোগীকে নিয়মিত CT বা MRI স্ক্যান এবং নিউরোলজিক্যাল মূল্যায়ন করা হয়। এটি হেমাটোমা কমছে বা আবার বৃদ্ধি পাচ্ছে কিনা তা নির্ধারণে সাহায্য করে।

5. লাইফস্টাইল পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস:

উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে বলা হতে পারে।

মদ্যপান বা ধূমপান কমানোর পরামর্শ দেওয়া হতে পারে, যেগুলি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

এই চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা রোগীর অবস্থা অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে, এবং সব চিকিৎসা পরিকল্পনা চিকিৎসকের পরামর্শে করা উচিত।

Raiyyan Tahsan Date:-15-07-2025 Tuesday Time:-10-57-39 Pm

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top