Hello I'm Raiyyan Tahsan
Brand Model and Executive

TC(540).(24).Hepatology Case No 12. Jaundice

চোখ হলুদ হয়ে থাকা রোগীর Pulse মেপে পেলেন 47 b/min.

রোগীর যে Jaundice আছে এটা নিয়ে আপনার কোনো Doubt নাই, কারণ, Jaundice এর বাকি সব Clinical Feature ই আছে এই রোগীর মাঝে। কিন্তু, Pulse এর এই অবস্হা কেন?

এক্ষেত্রে Cardiac Cause চিন্তা করতে যেয়েও করলেন না আপনি। কারণ?

আপনার একটা ছোট্ট Infomation জানা আছে- Bilirubin Vagus Nerve কে Stimulate করতে পারে। রোগী যেরকম Jaundice নিয়ে আসছে, বোঝাই যাচ্ছে তার রক্তে Bilirubin এর পরিমাণ বেশ ভালোই আছে।

আর Vagus Nerve Stimulated হওয়ার জন্যেই রোগীর Pulse এর এই অবস্হা।

জন্ডিস (Jaundice):

কী?
জন্ডিস হলো একটি শারীরিক অবস্থা যেখানে শরীরে বিলিরুবিন নামক একটি পদার্থ অতিরিক্ত পরিমাণে জমে গিয়ে ত্বক এবং চোখের সাদা অংশে হলুদ রঙের পরিবর্তন আনে।

কেন হয়?
জন্ডিস হওয়ার প্রধান কারণ হলো বিলিরুবিনের অতিরিক্ত উৎপাদন বা কম নির্গমন। বিলিরুবিন হলো লিভারের মধ্যে উৎপন্ন একটি পদার্থ, যা লাল রক্তকণিকার ভাঙনের পর সৃষ্টি হয়। সাধারণত, এটি লিভারে পরিশোধিত হয়ে পরবর্তী সময়ে পিত্তনালির মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে যায়। যদি লিভার বা পিত্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে এটি বের হতে পারেনা এবং শরীরে জমে যায়, যা জন্ডিসের কারণ হয়।

জন্ডিসের কারণ:

  1. লিভারের রোগ:
    1. হেপাটাইটিস (ভাইরাল, অ্যালকোহলিক, বা অন্যান্য কারণে)
    1. সিরোসিস
    1. লিভার ক্যান্সার
  2. পিত্তনালির সমস্যা:
    1. পিত্তথলির পাথর
    1. পিত্তনালি বন্ধ হওয়া
  3. রক্তের সমস্যা:
    1. লাল রক্তকণিকার অত্যধিক ভাঙন (হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া)
  4. নবজাতকদের জন্ডিস:
    1. নবজাতক শিশুদের মধ্যে বিশেষ ধরনের জন্ডিস হতে পারে যা সাধারণত জন্মের পরে কিছুদিনের মধ্যে চলে যায়।

লক্ষণ (Symptoms):

  • ত্বক এবং চোখের সাদা অংশের হলুদ রঙ ধারণ
  • পেটের উপরের অংশে ব্যথা বা অস্বস্তি
  • মল পাতলা বা সাদা হয়ে যাওয়া
  • প্রস্রাব গা dark ় রঙের হওয়া
  • ক্লান্তি বা দুর্বলতা
  • তীব্র ক্ষুধামন্দা

ক্লিনিক্যাল ডায়াগনোসিস (Clinical Diagnosis):

  • রক্ত পরীক্ষা (Blood Test): বিলিরুবিনের স্তর পরীক্ষা করা হয়।
  • লিভার ফাংশন টেস্ট (Liver Function Test): লিভারের কার্যক্ষমতা যাচাই করা হয়।
  • ইউরিন পরীক্ষা (Urine Test): প্রস্রাবে বিলিরুবিনের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়।
  • ইমেজিং পরীক্ষা (Imaging Tests): আলট্রাসাউন্ড, সিটি স্ক্যান বা এমআরআই দিয়ে লিভার, পিত্তথলি এবং পিত্তনালি পরীক্ষা করা হয়।

প্রতিরোধ (Prevention):

  • ভ্যাক্সিনেশন: হেপাটাইটিস বি এবং সি ভ্যাক্সিনেশন জন্ডিস প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।
  • স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন: অ্যালকোহল থেকে বিরত থাকা, সুস্থ খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা।
  • পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা: জীবাণু সংক্রমণ এড়ানোর জন্য ভাল পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।
  • পিত্তথলি পরিষ্কার রাখা: পিত্তথলি পাথরের সমস্যা এড়ানোর জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ করা।

এই তথ্যের ভিত্তিতে জন্ডিসের লক্ষণ, কারণ এবং চিকিৎসা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া যাবে।

ক্লিনিক্যাল ডায়াগনোসিস (Clinical Diagnosis):

জন্ডিসের সঠিক ক্লিনিক্যাল ডায়াগনোসিসের জন্য সাধারণত নিম্নলিখিত পরীক্ষাগুলি করা হয়:

  1. বিলিরুবিন পরীক্ষা (Serum Bilirubin Test):
    1. এই পরীক্ষা দিয়ে শরীরে বিলিরুবিনের স্তর নির্ণয় করা হয়। এটি জন্ডিসের মূল চিহ্ন।
    1. বিলিরুবিনের স্তরের উপর ভিত্তি করে চিকিৎসক বুঝতে পারেন কি ধরনের জন্ডিস (হেপাটিক, হেমোলাইটিক, অথবা কোলেস্ট্যাটিক) হতে পারে।
  2. লিভার ফাংশন টেস্ট (Liver Function Test – LFT):
    1. এই পরীক্ষায় লিভারের বিভিন্ন এনজাইম (যেমন AST, ALT, ALP, GGT) এবং প্রোটিন লেভেল পরীক্ষা করা হয়। এটি লিভারের কার্যক্ষমতা যাচাই করতে সহায়তা করে।
  3. সম্পূরক টেস্ট (Complete Blood Count – CBC):
    1. রক্তের সাধারণ পরীক্ষা যা লাল রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং প্লেটলেটের সংখ্যা পরীক্ষা করে। এটি রক্তের কোনো রোগ বা অস্বাভাবিকতা যেমন হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া শনাক্ত করতে সহায়তা করে।
  4. ইউরিন পরীক্ষা (Urine Test):
    1. এই পরীক্ষায় প্রস্রাবের মধ্যে বিলিরুবিন এবং ইউরোবিলিনোজেনের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়। জন্ডিসের ফলে প্রস্রাব গা dark ় হয়ে যেতে পারে।
  5. পিত্তথলি আলট্রাসাউন্ড (Ultrasound of Gallbladder):
    1. পিত্তথলি বা পিত্তনালির সমস্যা যেমন পাথর বা বন্ধ হওয়া পরীক্ষা করার জন্য আলট্রাসাউন্ড করা হয়।
  6. CT Scan বা MRI (Computed Tomography Scan / Magnetic Resonance Imaging):
    1. লিভার, পিত্তথলি এবং পিত্তনালির যে কোনো সমস্যা, টিউমার বা ব্লক পরীক্ষা করতে সিটি স্ক্যান বা এমআরআই ব্যবহার করা হতে পারে।
  7. পিত্তথলি ডিসকিনেসিয়া টেস্ট (Hepatobiliary Iminodiacetic Acid (HIDA) Scan):
    1. এটি পিত্তথলির কার্যক্ষমতা এবং পিত্তনালির ব্লক পরীক্ষা করার জন্য ব্যবহৃত হয়।

এই পরীক্ষা গুলোর মাধ্যমে জন্ডিসের কারণ এবং তার উপসর্গ নির্ণয় করা হয়, যা চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়ক।

জন্ডিসের জন্য ফার্মাকোলজিক্যাল ড্রাগ ব্যবস্থাপনা (Pharmacological Drug Management for Jaundice):

জন্ডিসের চিকিৎসায় মূলত দুটি ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার হয়: একাধিক কারণের জন্য আলাদা চিকিৎসা এবং এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গগুলোর চিকিৎসা। তবে যেহেতু জন্ডিস সাধারণত একটি উপসর্গ এবং এর অন্তর্নিহিত কারণের উপর নির্ভর করে, চিকিৎসা ব্যবস্থাও সেই অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।

বাংলাদেশে জন্ডিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু সাধারণ জেনেরিক ড্রাগ এবং তাদের ব্র্যান্ড নাম নিম্নরূপ:

  1. প্যারাসিটামল (Paracetamol):
    1. ব্যবহার: যেহেতু জন্ডিসের অনেক ক্ষেত্রে শরীরে ব্যথা এবং তাপমাত্রা থাকতে পারে, প্যারাসিটামল ব্যবহৃত হয়।
    1. বাংলাদেশে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড:
      1. Calpol
      1. Dolo
      1. Paracip
  2. এমপ্যারাজল (Emparezole) / এসোমিপ্রাজোল (Esomeprazole):
    1. ব্যবহার: লিভারের সমস্যা (যেমন হেপাটাইটিস) বা পিত্তথলি সমস্যা থাকলে এসিড নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
    1. বাংলাদেশে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড:
      1. Nexium
      1. Esomex
      1. Gastrozen
  3. অ্যালোফক্স (Allofox):
    1. ব্যবহার: পিত্তনালির ব্লকেজ বা পিত্তথলি রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
    1. বাংলাদেশে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড:
      1. Allofox
      1. Allopurinol (যদি গাউট সম্পর্কিত সমস্যা থাকে)
  4. সুডোক্রোম (Sodocrom):
    1. ব্যবহার: পিত্তথলি ও লিভার সমস্যা মোকাবেলা করতে ব্যবহৃত হয়।
    1. বাংলাদেশে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড:
      1. Sodocrom
  5. ডেনোফোস (Denofos):
    1. ব্যবহার: হেপাটাইটিস বী বা সি ভাইরাসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
    1. বাংলাদেশে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড:
      1. Denofos
      1. Hepatitis B vaccine
  6. অ্যাসিডিফিকেশন বা পিত্তনালির চিকিৎসা:
    1. ব্যবহার: পিত্তথলি এবং পিত্তনালির সমস্যা হলে চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়।
    1. বাংলাদেশে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড:
      1. Udiliv (Ursodeoxycholic acid)
      1. Ursodiol
  7. হেপাটাইটিস B এবং C টিকার চিকিৎসা:
    1. ব্যবহার: হেপাটাইটিস B এবং C ভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকা প্রয়োগ।
    1. বাংলাদেশে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড:
      1. Engerix-B (Hepatitis B vaccine)
      1. Pegasys (Hepatitis C treatment)

এটি একটি সাধারণ তালিকা। তবে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ ব্যবহার করা উচিত নয়।

Raiyyan Tahsan Date:-14-06-2025 Saturday Time:-09-01-45 Am

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top