রোগী এসে তার যেসব সমস্যার কথা জানালো-
সবসময় পেটটা ভার লাগে
একটু খেলেই বমি বমি ভাব আসে
প্রায়ই ঢেকুর উঠে
আর দিন দিন ওজন কমতেছে।
রোগীর সমস্যা গুলো শুনে আপনি আরো ভালোভাবে History নিলেন। জানতে পারলেন :
Appetite একদম নেই।
কিছু খেলেই bloating হয়।
Stool একটু loose হলেও খুব বেশি watery না।
মাঝে মধ্যে পায়ে পানি আসে।
পায়ে পানি আসার কথা শুনে আপনি কয়েকটা condition এর কথা ভাবলেন –
Hypoproteinemia হতে পারে
কোনো liver disease / nephrotic syndrome হতে পারে
আপনি এই related investigation গুলো করিয়ে রোগীকে দেখা করতে বললেন। Report আসলে দেখা গেল :
Liver function, RFT সব normal ই আছে
Urine এ protein এর কোনো trace পাওয়া যায় নাই
তবে Serum Albumin একদম low আসছে।
Hypoalbuminaemia পাওয়া গেলেও, liver/kidney সব ঠিক আছে। তাহলে সম্ভাবনা আছে GI tract দিয়ে কোথাও protein leak হতে পারে, অর্থাৎ Protein-losing Enteropathy. তাই আপনি রোগীকে এবার Upper GI Endoscopy suggest করলেন।
Endoscopy report এ আসলো:
Stomach এর Body & Fundus অংশে বিশাল বিশাল rugae (folds) পাওয়া গেছে।
কোনো ulcer বা tumor পাওয়া যায়নি।
এরকম findings দেখে এখন আপনি Diagnosis হিসেবে Menetrier’s Disease এর কথা ভাবতে শুরু করলেন।
Menetrier’s Disease হলো একটা Protein-losing Hypertrophic Gastropathy
এই Disease এ Stomach এর mucosal layer এর abnormal overgrowth হয়
Chief cell, Parietal cell কমে যায়
কিন্তু mucus-producing cell hyperplastic হয়ে যায়
এতে করে gastric juice এ :
Protein-rich mucus
Acid production
ফলে খাবার হজম হয় না। এতে করে bloating, early satiety হয়।
mucosa দিয়ে protein leak করে। এতে করে hypoalbuminaemia হয়।
Hypoalbuminaemia: সংজ্ঞা
হাইপোঅ্যালবুমিনেমিয়া (Hypoalbuminaemia) বলতে রক্তে অ্যালবুমিন প্রোটিনের মাত্রা স্বাভাবিকের নিচে নেমে যাওয়াকে বোঝায়। স্বাভাবিক সিরাম অ্যালবুমিনের পরিমাণ ৩.৫–৫.০ গ্রাম/ডেসিলিটার; যখন এটি ৩.৫ গ্রাম/ডেসিলিটারের নিচে নেমে যায়, তখন হাইপোঅ্যালবুমিনেমিয়া ধরা হয়
কারণ (Causes)
- হেপাটিক সিন্থেসিসের হ্রাস: লিভার সিরোসিস, ক্রনিক হিপাটাইটিসের কারণে অ্যালবুমিন উৎপাদন কমে যায় প্রোটিন নিঃসরণের বৃদ্ধি: নিউফ্রোটিক সিন্ড্রোমে大量 প্রোটিন ইউরিনে হারানো, প্রোটিন–লুজিং এন্টারোপ্যাথিতে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্ট থেকে প্রোটিন লস
- নিউট্রিশনাল ডেফিসিট: দীর্ঘমেয়াদি অনুষ্টপূর্ণ ডায়েট বা মারাত্মক কুমাহার (ম্যালনিউট্রিশন) নেতিবাচক অ্যাকিউট–ফেজ রিঅ্যাক্টেন্ট: সেপসিস, বার্নস, অন্যান্য ইনফ্ল্যামেশনের সময় IL-6, TNF-α–র ক্ষতিকারক প্রভাব
উপসর্গসমূহ (Symptoms)
- এডিমা: গলদা ও পায়ের ফোলা, অ্যাসাইটিস (জল জমে পেট ফুলে যাওয়া) প্লুরাল ও পারিকার্ডিয়াল এফিউশন: ফুসফুস ও হার্টের চারপাশে তরল জমা
- জেনারাল দুর্বলতা ও ক্লান্তি মুএহ্রক–লাইনস (Muehrcke’s lines): নখের প্রতি অনিয়মিত সাদা লাইন দেখা যায়
ক্লিনিক্যাল নির্ণয় (Clinical Diagnosis)
- ল্যাবরেটরি টেস্ট: সিরাম অ্যালবুমিন মাপা (ব্রমোক্রেসল গ্রীন বা ব্রোমোক্রেসল পোপটুন পরীক্ষা), যেখানে <৩.৫ g/dL হলে হাইপোঅ্যালবুমিনেমিয়া ধরা হয়
- আন্ডারলাইং কাজনের মূল্যায়ন:
- লিভার ফাংশন টেস্ট (LFT)
- কিডনি ফাংশন (RFT) ও ২৪-ঘন্টা ইউরিন প্রোটিন
- সেপটিস এজ প্রোফাইল: সি-রিঅ্যাক্টিভ প্রোটিন (CRP), সিস্টেমিক ইনফ্ল্যামেশন মার্কার
- ইমেজিং ও শারীরিক পরীক্ষা: অ্যাসাইটিস বা এডিমার উৎস সনাক্ত করতে আলট্রাসাউন্ড, এক্স-রে ইত্যাদি
প্রতিরোধ (Prevention)
- উপযুক্ত পুষ্টি: পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন-সমৃদ্ধ ডায়েট নিশ্চিত করা
- প্রাথমিক রোগ পরিচালনা: লিভার বা কিডনির রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্ত ও চিকিৎসা, ইনফ্ল্যামেশন নিয়ন্ত্রণ
- নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা: উচ্চ–ঝুঁকিপূর্ণ রোগী (সিরোসিস, নিউফ্রোটিক সিন্ড্রোম) নিয়মিত ল্যাব পরীক্ষা
- ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণ: সেপসিস বা ক্রনিক ইনফ্ল্যামেশন কমাতে প্রম্পট এন্টিবায়োটিক/এন্টি–ইনফ্ল্যামেটরি থেরাপি
উল্লেখ্য, হাইপোঅ্যালবুমিনেমিয়া নিজে–নিজে জীবনের জন্য বিরূপ নয়, বরং এটি অন্য কোনো গুরুতর রোগের সংকেত। তাই সর্বদা মূল কারণ নির্ণয় করে যথাযথ ব্যবস্থাপনা জরুরি।
হাইপোঅ্যালবুমিনেমিয়ার চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা
- মূল কারণ নির্ণয় ও চিকিৎসা
হাইপোঅ্যালবুমিনেমিয়া কখনোই স্বতন্ত্র রোগ নয়; বরং এটি লিভার সিরোসিস, নিউফ্রোটিক সিন্ড্রোম, প্রোটিন–লুজিং এন্টারোপ্যাথি, সেপসিস ইত্যাদি রোগের ফলাফল। সেক্ষেত্রে প্রথমেই মূল রোগ সনাক্ত করে সেটির যথাযথ চিকিৎসা করতে হয়। উদাহরণস্বরূপ, নিউফ্রোটিক সিন্ড্রোমে ইমিউনোসুপ্রেস্যান্ট এবং প্রোটিনুরিয়া নিয়ন্ত্রণ বা লিভার সিরোসিসে এন্টিরোসিভ থেরাপি প্রয়োগ করা হয় মানব সিরাম অ্যালবুমিন ইনফিউশন- ইনডিকেশন: গুরুতর এডিমা/অ্যানাসারকা, বড় অস্ত্রোপচারের পর (বিশেষ করে হেপাটিক রিসেকশন), স্পন্টেনিয়াস ব্যাকটেরিয়াল পেরিটোনাইটিস বা দ্রুত প্রগ্রেসিং হেপেটোরেনাল সিন্ড্রোমে (টাইপ ১)।
- ডোজ: সাধারণত 20–25% সিরাম অ্যালবুমিন, 25 গ্রাম/দিন দিয়ে শুরু, প্রয়োজনমতো 2–4 দিন পর্যন্ত চালিয়ে নেয়া হয় মনিটরিং: ইনফিউশনের সময় ভলিউম স্ট্যাটাস (ইউরিন আউটপুট, সেন্ট্রাল ভেনাস প্রেসার) পর্যবেক্ষণ এবং রক্তে অ্যালবুমিন পর্যবেক্ষণ করা জরুরি
- ড্রাগ থেরাপি
- ডায়ুরেটিক্স: ফোরোসেমাইড (Furosemide) 20–40 মিগ্রাম/day, স্পাইরোনোল্যাকটোন (Spironolactone) 25–50 মিগ্রাম/day; এডিমা নিয়ন্ত্রণে ইনফিউশন করা অ্যালবুমিনের সাথে প্রয়োগে কার্যকর ACE Inhibitors / ARBs: ক্যাপটোপ্রিল (Captopril) 25–50 মিগ্রাম/day অথবা লোসার্টান (Losartan) 50–100 মিগ্রাম/day, প্রোটিনুরিয়া হ্রাসে এবং কিডনি সুরক্ষায় ব্যবহৃত হয়
- কোর্টিকোস্টেরয়েড: নিউফ্রোটিক সিন্ড্রোমের ক্ষেত্রে প্রেডনিসোলোন (Prednisolone) 1 মিগ্রাম/কেজি/day ৪–৮ সপ্তাহ দেয়া হয় অন্য ইমিউনোসুপ্রেস্যান্ট (যদি প্রয়োজন): সাইক্লোফসফামাইড (Cyclophosphamide), সাইকোস্পোরিন (Cyclosporine) ইত্যাদি, বিশেষ করে রেসিস্ট্যান্ট কেসে
- পুষ্টি ও লাইফস্টাইল সমর্থন
- উচ্চ–প্রোটিন ডায়েট: দিনে 1–1.5 গ্রাম/কেজি প্রোটিন; ডেইরি, ডিম, মাংস, বাদাম ইত্যাদি উৎস থেকে প্রাপ্ত করতে উৎসাহিত করা হয়
- সোডিয়াম সীমিত (≤2 গ্রাম/day): টিস্যু পদরফণ কমাতে এডিমা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন: পর্যাপ্ত বিশ্রাম, ইনফেকশন এড়িয়ে চলা ও নিয়মিত মেডিক্যাল ফলো-আপ রাখা জরুরি।
মন্তব্য:
- প্রতিটি থেরাপি শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
- ইনট্রাভেনাস অ্যালবুমিন অত্যন্ত ব্যয়বহুল; সঠিক ইন্ডিকেশন ও মনিটরিং ছাড়া এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
এভাবে সমন্বিত চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করলে হাইপোঅ্যালবুমিনেমিয়া কাটিয়ে ওঠা সহজ হয়।
Raiyyan Tahsan. Date:-12-06-2025 Thursday Time:-08-38-47 Pm