Hello I'm Raiyyan Tahsan
Brand Model and Executive

(12).ENT Case No 20. Otosclerosis

কানে কম শুনার কারণ ও করণীয়:

আমাদের কানে শুনার জন্য কানের ভেতরে তিনটা হাড় আছে। এগুলোর বাহিরের দিকে আছে কানের পর্দা আর ভেতরের দিকে আছে নার্ভ বা স্নায়ু।

যে কোনো শব্দ কানে পৌঁছানোর পরে এই হাড়ের কম্পনের মাধ্যমে শব্দ প্রথমে কানের ভেতরে যায় এবং তারপর নার্ভের মাধ্যমে ব্রেন পর্যন্ত পৌঁছায়।

এই রাস্তায় যে কোন একটা জায়গাতে সমস্যা হলে রোগীরা কানে কম শুনতে পায়।

**আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু হচ্ছে কানের এই হাড়গুলো।

হাড়ের পরিচয় ও কাজ:

কানের হাড়গুলোর একটি ম্যালিয়াস, তারপর ইনকাস এবং সবচেয়ে ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ হলো স্টেপিস। যখন এই হাড়গুলো নড়াচড়া করে তখনই আমরা শব্দ শুনতে পাই। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রে এই স্টেপিস হাড্ডিটা নাড়াচড়া করে না, ফিক্সড হয়ে যায়। তখন এই রোগটার নাম হয় অটোস্ক্লেরোসিস (Otosclerosis)।

লক্ষণ সমূহ :

১. যুবক বা যুবতীদের কানে কম শুনতে পাওয়া

২. কানের মধ্যে শাঁ শাঁ বা ভোঁ ভোঁ শব্দ হওয়া যাকে আমরা টিনিটাস বলে থাকি ।

রোগটা যেভাবে বুঝতে পারা যায় :

সাধারণত এই ধরনের রোগীদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কানের পর্দা নরমাল থাকে। এই হাড়ের নড়াচড়া বাইরে থেকে দেখে বোঝার কোন উপায় থাকে না শুধুমাত্র ধারণা করা যায়।

রোগ নির্ণয়ের মাধ্যম :

চেম্বারে আমরা সাধারণত টিউনিং ফর্ক যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করে থাকি। এছাড়া প্রাথমিকভাবে রোগ নির্ণয়ের জন্য শ্রবণশক্তির কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করানো হয়। সন্দেহ জনক কিছু ক্ষেত্রে এসব পরীক্ষাগুলো ২/৩ বার পর্যন্ত করানো হয়ে থাকে। এ ধরনের রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে এই পরীক্ষাটাকেই সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে।

কনফার্ম হব কিভাবে!!

এই রোগটা কনফার্ম হওয়া যায় শুধুমাত্র অপারেশনের টেবিলে, যখন আমরা কানের পর্দাটা উল্টে হাড়ের নড়াচড়া চেক করে থাকি।

যদি হাড়ের নড়াচড়া পরিলক্ষিত হয় তখন পর্দাটাকে জায়গা মত বসিয়ে রেখে অপারেশন শেষ করা হয়। আর যদি হাড়টাকে নড়াচড়া করতে না দেখি তাহলে সেটাকে ফেলে দিয়ে একটা কৃত্রিম হাড় সেখানে বসানো হয় (stapedotomy operation)।

অপারেশনের পদ্ধতি:

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ধরনের অপারেশনে কানের পেছনে বা বাইরে কোন দিকে কাটা ছেঁড়া করার প্রয়োজন হয় না। এন্ডোস্কোপ ক্যামেরা বা মাইক্রোস্কোপ এর মাধ্যমেই এই অপারেশন সম্পন্ন করা হয়ে থাকে।

অপারেশনের বিকল্প :

কানের মেশিন ব্যবহার করা। সাধারণত মেশিন ব্যবহার করলে রোগী ভালো শুনতে পাবে কিন্তু রোগ ভালো হবে না। শ্রবণশক্তি ধীরে ধীরে আরো কমতে পারে তখন আর অপারেশন করেও কোন কাজ হয় না।

অপারেশনের সফলতা ও জটিলতা :

১. এই ধরনের ক্ষেত্রে অপারেশন করলে রোগীদের ভালো হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। প্রতি ১০০ জনের অপারেশনে গড়ে ৯০ থেকে ৯২ জন ভালো শুনতে পায়, তিন থেকে চারজন রোগীর তেমন উন্নতি হয় না, এক থেকে দুই জন রোগীর শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

২. অপারেশনের পরে ৬০ থেকে ৭০ ভাগ রোগীর কানের শাঁশাঁ বা ভোঁভোঁ (টিনিটাস) শব্দ ভালো হয়ে যায়, বাকিদের ক্ষেত্রে কিছুটা থাকতে পারে । কিন্তু চার থেকে পাঁচ ভাগ রোগীর এই শব্দের পরিমাণ বেড়েও যেতে পারে।

অপারেশনের ব্যায়:

এই খরচটা এক এক সার্জনের কাছে একেক রকম হয়।(পাবলিকলি আলাপ করার বিষয় না)

Raiyyan Tahsan Date:-27-04-2025 Sunday Time:-10-13-45 Pm

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top