টোডলার বয়স কাকে বলে? এই বয়সের বাচ্চাদের জেদ কিভাবে কন্ট্রোল করা যায়?
সাধারণত ১ থেকে ৩ বছর বয়সের সময়কালকে টোডলার (Toddler) পর্যায় বলা হয়। এই বয়সে শিশুরা যেহেতু টলমল পায়ে হাঁটতে শেখে (Toddle), তাই তাদের এই নামে ডাকা হয়। এই সময়টি শিশুর বিকাশের জন্য যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি বাবা-মায়ের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জিং।
টোডলারদের জেদ সামলানোর কিছু কার্যকর উপায়:
১. মেজাজ হারানোর কারণ বোঝা
শিশুরা অকারণে জেদ করে না। সাধারণত ক্ষুধা লাগলে, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে অথবা অতিরিক্ত ক্লান্ত থাকলে তারা বেশি খিটখিটে হয়ে পড়ে। তাই আগে নিশ্চিত করুন তার শারীরিক চাহিদাগুলো ঠিকমতো পূরণ হচ্ছে কি না।
২. “না” বলার পরিবর্তে বিকল্প দেওয়া
সরাসরি “এটা করো না” বা “ওটা ধরো না” বললে শিশুদের জেদ আরও বেড়ে যায়। এর বদলে তাকে বিকল্প অপশন দিন। যেমন: “তুমি কি নীল জামা পড়বে নাকি লাল জামা?” এতে শিশু অনুভব করে যে তার মতামতের গুরুত্ব আছে।
৩. মনোযোগ সরিয়ে নেওয়া (Distraction)
যখন দেখবেন শিশু কোনো কিছুর জন্য জেদ শুরু করছে, দ্রুত তার মনোযোগ অন্য কোনো আকর্ষণীয় জিনিসের দিকে সরিয়ে নিন। যেমন: জানালার বাইরে কোনো পাখি দেখানো বা তার প্রিয় কোনো খেলনা নিয়ে কথা বলা।
৪. শান্ত থাকা ও প্রতিক্রিয়া না দেখানো
শিশু যখন চিৎকার করে কান্নাকাটি বা জেদ করে, তখন আপনি পাল্টা চিৎকার করবেন না। আপনি শান্ত থাকলে সে ধীরে ধীরে বুঝতে পারবে যে চিৎকার করে কাজ হবে না। অনেক সময় জেদ করলে তাকে কিছুক্ষণ একা ছেড়ে দেওয়া (Safe distance-এ রেখে) কার্যকর হয়।
৫. রুটিন মেনে চলা
টোডলারদের জন্য নির্দিষ্ট রুটিন খুব জরুরি। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়া, ঘুমানো এবং খেলার অভ্যাস থাকলে তাদের মেজাজ স্থিতিশীল থাকে। হঠাৎ করে রুটিন পরিবর্তন হলে তারা খিটখিটে হয়ে যায়।
৬. ভালো কাজের প্রশংসা করা
আমরা অনেক সময় শিশু জেদ করলে বকা দিই, কিন্তু যখন সে শান্ত থাকে বা ভালো কোনো কাজ করে, তখন প্রশংসা করতে ভুলে যাই। সে যখন শান্তভাবে কোনো কথা শুনবে, তখন তাকে আদর করুন বা সাবাশ দিন। এতে সে ইতিবাচক আচরণে উৎসাহিত হবে।
৭. কখনোই মারধর বা ভয় দেখানো নয়
জেদ কমানোর জন্য শিশুকে মারধর করলে বা ভয় দেখালে হিতে বিপরীত হয়। এতে শিশুর মনে জেদ আরও স্থায়ী রূপ নিতে পারে এবং তার মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
Md.Rafiqul Islam Lipu,Date:-19-09-2026,Saturday,Time:-06-04-35 Pm