ডায়রিয়া হলে, জ্বর হলে, ঠান্ডা কাশি হলে বাচ্চাদের কেমন খাবার দেয়া উচিত?
১. ডায়রিয়া (Diarrhea) হলে খাবার—
ডায়রিয়ার সময় প্রধান লক্ষ্য থাকে শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করা।
ওআরএস (ORS) বা খাবার স্যালাইন: প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর বয়স অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে। ২ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের ১০-২০ চামচ এবং ২ বছরের বেশি বয়সীদের ২০-৪০ চামচ বা যতটুকু খেতে চায়, দেওয়া উচিত।
মায়ের দুধ: বাচ্চা যদি বুকের দুধ পান করে, তবে কোনো অবস্থাতেই তা বন্ধ করা যাবে না। স্বাভাবিকের চেয়ে আরও বেশি বারবার বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।
সহজপাচ্য খাবার: খিচুড়ি (চাল, ডাল এবং কাঁচকলা দিয়ে তৈরি) বা জাউ ভাত দেওয়া যেতে পারে।
অন্যান্য তরল: ডাবের পানি, ভাতের মাড়, বা চিঁড়ার পানি অল্প অল্প করে খাওয়ানো যেতে পারে। কাঁচকলা সেদ্ধ করে চটকে খাওয়ালে পায়খানা দ্রুত শক্ত হতে সাহায্য করে।
যা বর্জনীয়: অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার, প্যাকেটজাত জুস, কোমল পানীয়, চিপস এবং অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার একদম দেওয়া যাবে না। এগুলো ডায়রিয়া আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
২. জ্বর (Fever) হলে খাবার—
জ্বরের সময় শরীরের তাপমাত্রা বাড়ার কারণে মেটাবলিজম বাড়ে এবং শরীর থেকে পানি শুকিয়ে যায়। তাই এই সময় উচ্চ ক্যালোরি ও তরল খাবারের প্রয়োজন।
পর্যাপ্ত তরল: শরীর রিহাইড্রেট রাখতে পানি, ঘরে তৈরি ফ্রেশ ফলের রস (কমলা বা মাল্টা), এবং পাতলা স্যুপ (সবজি বা মুরগির মাংসের স্যুপ) দেওয়া খুব ভালো।
নরম ও শক্তিদায়ী খাবার: অল্প পরিমানে নরম ভাত, সুজি, পায়েস বা কাস্টার্ড দেওয়া যেতে পারে। ডিম সেদ্ধ বা ডিমের পুডিং ভালো শক্তির উৎস।
বারবার অল্প খাবার: জ্বর থাকলে বাচ্চার মুখে রুচি থাকে না। তাই একবারে বেশি না খাইয়ে প্রতি ২-৩ ঘণ্টা পর পর অল্প অল্প করে খাওয়ান।
যা বর্জনীয়: অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত বা ভাজাপোড়া খাবার, যা হজম করা বাচ্চার জন্য কঠিন হতে পারে।
৩. ঠান্ডা ও কাশি (Cold & Cough) হলে খাবার—
ঠান্ডা-কাশির সময় বাচ্চার গলা খুসখুস করে এবং গিলতে কষ্ট হতে পারে। তাই খাবারগুলো যেন কিছুটা উষ্ণ এবং গলার জন্য আরামদায়ক হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
উষ্ণ তরল খাবার: হালকা গরম পানি, কুসুম গরম তরল খাবার যেমন- স্যুপ (চিকেন বা ভেজিটেবল) বা হালকা গরম দুধ (যদি বাচ্চার বয়স ১ বছরের বেশি হয়)।
মধু ও লেবুর রস: বাচ্চার বয়স ১ বছরের বেশি হলে, এক চামচ হালকা গরম পানির সাথে সামান্য মধু এবং কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে দিনে ১-২ বার খাওয়ালে কফ ও কাশির তীব্রতা কমে। (মনে রাখবেন, ১ বছরের কম বয়সী বাচ্চাকে কোনোভাবেই মধু দেওয়া যাবে না)।
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার: লেবু, কমলা, মাল্টা বা পেয়ারার মতো ভিটামিন সি যুক্ত ফল বা ফলের রস রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
সহজ আহার: নরম খিচুড়ি বা ওটস, যা সহজে গিলে ফেলা যায়।
যা বর্জনীয়: ফ্রিজের ঠাণ্ডা খাবার, ঠাণ্ডা পানি বা আইসক্রিম এই সময় পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে।
Md.Rafiqul Islam Lipu,Date:-19-09-2026,Saturday,Time:-06-04-35 Pm