১. জোর করে খাওয়ানো একদম বন্ধ করুন (No Force-Feeding)
বাচ্চার পাকস্থলী ছোট। সে যতটুকু খেতে চায়, ততটুকুই খেতে দিন। জোর করে মুখে খাবার গুঁজে দিলে খাবারের প্রতি বাচ্চার ভয় বা অনীহা (Food Aversion) তৈরি হয়। মনে রাখবেন—বাচ্চা কী খাবে সেটা আপনার সিদ্ধান্ত, কিন্তু সে কতটা খাবে সেটা বাচ্চার সিদ্ধান্ত।
২. খাবারের নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করুন
প্রতিদিন একই সময়ে সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার, বিকেলের নাস্তা এবং রাতের খাবার দেওয়ার চেষ্টা করুন। এতে বাচ্চার শরীরের ভেতরের ঘড়ি (Biological Clock) সক্রিয় হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ে তার নিজে থেকেই খিদে পাবে।
৩. স্ক্রিন টাইম সম্পূর্ণ বন্ধ (No Screen Time)
খাওয়ানোর সময় মোবাইল, টিভি বা ট্যাবে কার্টুন দেখানো সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। স্ক্রিন দেখে খেলে বাচ্চা না চিবিয়ে গিলে ফেলে, যা হজমে সমস্যা করে। এছাড়া, সে কী খাচ্ছে এবং তার পেট ভরছে কি না, সেটা বাচ্চার মস্তিষ্ক টের পায় না।
৪. খাবার আকর্ষণীয় ও বৈচিত্র্যময় করুন
বাচ্চারা রঙিন জিনিস পছন্দ করে। তাই তাদের খাবারে বৈচিত্র্য আনুন। যেমন:
লাল গাজর, সবুজ ব্রোকলি বা হলুদ ক্যাপসিকাম দিয়ে খাবার সাজিয়ে দিন।
রুটি বা স্যান্ডউইচ সাধারণ গোল না করে কার্টুন, তারা বা ত্রিভুজ আকৃতির করে কাটুন।
৫. একসঙ্গে বসে পারিবারিক পরিবেশ তৈরি করুন
বাচ্চারা অনুকরণপ্রিয়। তারা একা একা খেতে পছন্দ করে না। পরিবারের সবাই যখন একসাথে বসে আনন্দ করে খাবে, তখন বাচ্চাও বড়দের দেখে নিজে খাওয়ার আগ্রহ পাবে। তাকে নিজের হাতে খাওয়ার অভ্যাস করতে দিন, একটু নোংরা হলেও বাধা দেবেন না।
৬. জাঙ্ক ফুড এবং অতিরিক্ত তরল বন্ধ করুন
খাবার খাওয়ার ঠিক ১-২ ঘণ্টা আগে বাচ্চাকে চিপস, চকলেট, জুস বা অতিরিক্ত দুধ দেবেন না। এগুলো বাচ্চার পেট সাময়িকভাবে ভরিয়ে রাখে, ফলে মূল খাবারের সময় তার কোনো খিদে থাকে না।
৭. অল্প অল্প করে বারবার দিন (Small and Frequent Meals)
একবারে অনেক খাবার বাচ্চার থালায় দেবেন না। বড় থালা ভর্তি খাবার দেখলে বাচ্চারা ভয় পেয়ে যায়। ছোট বাটিতে অল্প করে খাবার দিন। শেষ হলে প্রশংসা করুন এবং জিজ্ঞেস করুন সে আরেকটু নেবে কি না।
৮. খাবার তৈরিতে বাচ্চাকে যুক্ত করুন
বাজার করার সময় বা রান্নাঘরে ছোটখাটো কাজে (যেমন: সবজি ধুয়ে দেওয়া, বাটি এগিয়ে দেওয়া) বাচ্চাকে সাথে রাখুন। নিজের ছোঁয়া থাকা খাবারের প্রতি বাচ্চাদের আলাদা আকর্ষণ তৈরি হয় এবং তারা সেটা আগ্রহ নিয়ে খায়।
৯. নতুন খাবারের জন্য তাড়াহুড়ো করবেন না
কোনো নতুন খাবার বাচ্চার মুখে প্রথমবারই ভালো নাও লাগতে পারে। হাল ছাড়বেন না। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে, একটি নতুন খাবার বাচ্চার পছন্দ হতে ১০ থেকে ১৫ বার পর্যন্ত চেষ্টা করতে হতে পারে। অল্প অল্প করে বারবার তার সামনে খাবারটি আনুন।
১০. খাওয়ার পরিবেশ আনন্দদায়ক রাখুন
খাওয়ার টেবিলকে যুদ্ধক্ষেত্র বানাবেন না। “না খেলে পুলিশে দেব”, “ভূত আসবে”—এসব বলে ভয় দেখাবেন না। খাওয়ার সময় বাচ্চার সাথে গল্প করুন, হাসিখুশি পরিবেশ রাখুন। খাবার সময়টা যেন বাচ্চার কাছে শাস্তির মতো মনে না হয়।
Md.Rafiqul Islam Lipu,Date:-19-09-2026,Saturday,Time:-06-04-35 Pm