জ্বর হয়নি এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর, আসলে জ্বর কোন অসুখ নয় মূলত এটি কোন বড় অসুখের উপসর্গ । তাহলে আসো আজকে আমরা জ্বর সম্পর্কে জানব।
জ্বর (পাইরেক্সিয়া) কি?
সংজ্ঞায়িত করলে এভাবে বলা যায় যে
জ্বর বা পাইরেক্সিয়া হলো শরীরের তাপমাত্রার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, যা সাধারণত কোনো অসুস্থতার কারণে ঘটে।
এখন কিভাবে জ্বর হয় সেটা জানার আগে আসো আমরা জ্বর হইলে কি উপকার পাই সেটা জানি….
অনেকেই জ্বরকে রোগের একটি অপ্রিয় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মনে করেন, কিন্তু আসলে জ্বর হলো শরীরের এক ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে।তাপমাত্রা বৃদ্ধির মাধ্যমে শরীরকে জানান দেয় যে তোমরা আরো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (ইমিউন সিস্টেম )উন্নত কর বেশি বেশি সৈন্য(নিউট্রোফিল,মনোসাইট ) তৈরি কর
সুতরাং সংক্রমণ চলাকালীন জ্বরকে স্বাভাবিকভাবে চলতে দিলে অনেক সময় রোগ দ্রুত সেরে যায়, যত দ্রুত না সারে ওষুধ খেলে ।
আবার উচ্চ তাপমাত্রা—
১।বেশিরভাগ জীবাণুর বৃদ্ধি ধীর করে।
২।শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার কার্যকারিতা বাড়ায়।
৩।বিপাকক্রিয়া (Metabolism) বাড়িয়ে টিস্যু রিপেয়ার দ্রুত করে।
আচ্ছা এতক্ষণ তো জানলাম জ্বরের অনেক উপকারিতা তাহলে এবার এটা জানা দরকার যে এই জ্বরটা করে কে? কার হাত এর পেছনে?
সেটা হল আমাদের প্রিয় হাইপোথেলামাস (ব্রেনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ )।
হাইপোথ্যালামাসের ভূমিকাঃ
হাইপোথ্যালামাস শরীরের তাপমাত্রা প্রায় ৩৭°C (৯৮.৬°F)-এ স্থির রাখে।
এটি একটি থার্মোস্ট্যাটের মতো কাজ করে, যা শরীরের তাপ ও ঠান্ডা রিসেপ্টর থেকে সংকেত পায় এবং সে অনুযায়ী শরীরে তাপমাত্রা বাড়ায় বা কমায়।
যখন শরীর অতিরিক্ত গরম হয়:
হাইপোথ্যালামাস ঠান্ডা হওয়ার নির্দেশ দেয় (e.g ঘাম উৎপাদন)।
যখন তাপমাত্রা কমে যায়:
হাইপোথ্যালামাস শরীরকে তাপ সংরক্ষণ ও উৎপাদনের নির্দেশ দেয়, মূলত নরএপিনেফ্রিন(একটি নিউরোট্রান্সমিটার ) নিঃসরণের মাধ্যমে।
নরএপিনেফ্রিন ব্রাউন অ্যাডিপোজ(ফ্যাট সংবলিত ) টিস্যুতে তাপ উৎপাদন বাড়ায় এবং রক্তনালীর সংকোচন করে বডির তাপ হারানো কমায়। এছাড়া অ্যাসিটাইলকোলিন(নিউরোট্রান্সমিটার ) পেশিকে কাঁপুনি দিতে (Shivering) উদ্দীপিত করে, যা রাসায়নিক শক্তিকে তাপশক্তিতে রূপান্তর করে।ফলে আমরা গরম থাকি।
এখন আমরা জানবো হাইপোথেলামাস কিভাবে এবং কখন তাপমাত্রা বাড়াবে (জ্বর)।
জ্বর ও ইমিউন প্রতিক্রিয়াঃ
জ্বর হলো প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়ার (Inflammatory response) একটি অংশ।
যখন ইমিউন কোষ কোনো জীবাণু সনাক্ত করে, তখন তারা প্রদাহজনিত সাইটোকাইন উৎপন্ন করে, যার মধ্যে কিছু জ্বর উদ্দীপক (Pyrogenic)।
এই পাইরোজেনিক সাইটোকাইন হাইপোথ্যালামাসে কাজ করে Prostaglandin E₂ (PGE₂) তৈরি করতে উদ্দীপিত করে, যা প্রধান জ্বর সৃষ্টিকারী।
PGE₂ হাইপোথ্যালামাসের তাপমাত্রার সেট পয়েন্ট বাড়িয়ে দেয়, ফলে শরীর নিজেকে ঠান্ডা মনে করে এবং তাপ উৎপাদন বাড়ায়।আর এভাবেই আমরা জ্বর অনুভব করি।
জ্বর কমানোর ওষুধ কি কি আছে এবং তাদের কাজ এক নজরে দেখে নিইঃ
প্যারাসিটামল, অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেনের মতো ওষুধ PGE₂ তৈরিকে দমন করে কাজ করে।
সংক্রমণ সেরে গেলে পাইরোজেন উৎপাদন বন্ধ হয় এবং হাইপোথ্যালামাসের সেট পয়েন্ট স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরে আসে।
তখন শরীর ঠান্ডা হওয়ার জন্য ঘাম ঝরানো ও রক্তনালী প্রসারণ প্রক্রিয়া চালু করে।
সতর্কতাঃ
যদিও জ্বর সাধারণত উপকারী এবং চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না, তবুও তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ এটি—
বিভ্রান্তি (Confusion)
খিঁচুনি (Seizures)
মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি
সৃষ্টি করতে পারে।
ধন্যবাদ সবাইকে,
Happy learning
Md.Rafiqul Islam Date:-17-04-2026 Friday Time:-09-25-45 Pm