অনেকেই জানতে চেয়েছেন হার্টের ব্যথা এবং গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা পার্থক্য করবেন কিভাবে?
ক) ব্যথার অবস্থান:
* হার্টের ব্যথা: সাধারণত বুকের মাঝখানে হয়। অনেক সময় ব্যথা গলা, চোঁয়াল,কাঁধ, ঘাড় বা হাতে ছড়িয়ে পড়ে।
* গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা: পেটের উপরের দিকে (নাভির ওপরে, বুকের নিচে) হয়।
খ) ব্যথার সময়কাল:
* হার্টের ব্যথা: হঠাৎ শুরু, ৫-২০ মিনিট স্থায়ী হতে পারে।
* গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা: ধীরে ধীরে শুরু, দীর্ঘ সময় স্থায়ী হতে পারে।
গ) খাবারের সাথে সম্পর্ক:
* হার্টের ব্যথা: খাবারের পরে বাড়তে পারে।
* গ্যাস্ট্রিকের ব্যখা: খালি পেটে বা খাবারের পরে বেড়ে যায়।
মসলা, ঝাল,চর্বি জাতীয়, তৈলাক্ত খাবারে বেশি হয়।
ঘ) ব্যথার প্রকৃতি:
* হার্টের ব্যথা: চাপ বা ভারী কিছু বসে আছে এমন অনুভূতি।
* গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা: জ্বালাপোড়া বা থেমে থেমে তীব্র ব্যথা।
ঙ) ব্যথার সাথে অন্যান্য উপসর্গ:
* হার্ট অ্যাটাক হলে: শ্বাসকষ্ট, ঘাম, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা,বমি বমি ভাব বা বমি, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, অজ্ঞান হওয়া ইত্যাদি।
* গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা: অরুচি, বমি ভাব বা বমি, আলকাতরার মতো কালো পায়খানা বা রক্ত বমি (জটিলতা হলে)।
চ) পরিশ্রমের সাথে সম্পর্ক:
* হার্টের ব্যথা পরিশ্রমে বাড়ে এবং বিশ্রামে কমে।
* গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা পরিশ্রমের সাথে সম্পর্ক নাই।
ছ) ঔষধে প্রতিক্রিয়া:
* হার্টের ব্যথা: নাইট্রোগ্লিসারিনে উপশম হতে পারে।
* গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা: অ্যান্টাসিড বা গ্যাস্ট্রিকের ওষুধে কমে যায়।
জ) জীবনের ঝুঁকি:
* হার্ট অ্যাটাক: তাৎক্ষণিক চিকিৎসা না নিলে মারাত্মক হতে পারে। মৃত্যুহার ও জটিলতা অনেক বেশি।
* গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা: সাধারণত প্রাণঘাতী নয়, তবে চিকিৎসা না করলে জটিলতা হতে পারে।
** হার্টের ব্যথা হলে গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা মনে করে অবহেলা করবেন বা শুধু গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়ে বসে থাকবেন না।
হার্টের ব্যথা হলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
Raiyyan Tahsan Date:- 27-07-2025 Monday, Time:- 01-39-35 Pm