প্রিম্যাচিউর বেবি কারা? জানেন কি?
প্রতিদিন চেম্বারে অনেকে একটি সাধারণ প্রশ্ন করেন—
“ডাক্তার সাহেব, আমার বাচ্চা আগেভাগে জন্মেছে। তাহলে কি ওকে প্রিম্যাচিউর বলা হবে?”
সহজভাবে বললে, গর্ভাবস্থার ৩৭ সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার আগেই যে শিশুর জন্ম হয়, তাকেই প্রিম্যাচিউর শিশু বলা হয়। এই সময়ের আগে জন্ম নিলে শিশুর শরীরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঠিকভাবে পরিপূর্ণ হওয়ার সুযোগ পায় না।
তবে সব প্রিম্যাচিউর শিশুই একরকম নয়। জন্মের সময় অনুসারে এদের কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়—
লেট প্রিটার্ম (৩৪–৩৬ সপ্তাহ ৬ দিন):
এই সময় জন্ম নেয়া শিশুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। অনেকেই ভাবেন এরা পুরোপুরি সুস্থ, কিন্তু আসলে এদেরও কিছু বাড়তি পর্যবেক্ষণের দরকার হয়।
মডারেট প্রিটার্ম (৩২–৩৪ সপ্তাহ):
এদের ফুসফুস, খাওয়ার ক্ষমতা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ সবকিছুই এখনও পরিপূর্ণ নয়। সঠিক পরিচর্যা জরুরি।
ভেরি প্রিটার্ম (২৮–৩২ সপ্তাহ):
এদের জন্য নবজাতক ইনটেনসিভ কেয়ার (NICU) দরকার হয় প্রায় সব ক্ষেত্রেই।
এক্সট্রিমলি প্রিটার্ম (২৮ সপ্তাহের আগে):
এই শিশুরা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। জন্মের পরপরই জটিল যত্ন এবং উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন হয়।
আর যেসব শিশু ঠিক ৩৭ সপ্তাহে জন্মায়, তাদের আমরা বলি ‘আর্লি টার্ম’। অর্থাৎ তারা প্রিম্যাচিউর নয়, তবে পূর্ণ মেয়াদের ঠিক দোরগোড়ায়।
প্রিম্যাচিউর শিশু মানেই যে সে সারাজীবন পিছিয়ে থাকবে, তা নয়। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা, স্নেহময় পরিচর্যা, এবং নিয়মিত ফলো-আপ থাকলে তারাও একদিন স্বাভাবিক শিশুর মতো বেড়ে উঠতে পারে, ইনশাআল্লাহ।
তাই নির্ধারিত সময়ের আগেই যদি আপনার শিশু পৃথিবীতে চলে আসে, ভয় নয়—তাকে সময় দিন, যত্ন দিন, এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।