Hello I'm Raiyyan Tahsan
Brand Model and Executive

TC(558).(07).Neurology Case No 22.মস্তিষ্কের বায়োলজি

দুশ্চিন্তার লুপ: মস্তিষ্কের বায়োলজি

একই চিন্তা বারবার কেন ঘুরপাক খায়?

একটা ছোট্ট পরীক্ষা করো।

চোখ বন্ধ করে ভাবো—

তোমার মাথায় যদি একটা সুইচ থাকত, যেটা চেপে দিলেই অপ্রয়োজনীয় চিন্তা বন্ধ হয়ে যেত!

কেমন হতো?

অসাধারণ, তাই না?

কিন্তু আসল সত্যিটা হচ্ছে—

আমাদের মস্তিষ্ক এভাবে কাজ করে না।

মস্তিষ্ক এমন একটা যন্ত্র, যেটা তৈরি হয়েছে বেঁচে থাকার জন্য।

এবং বেঁচে থাকার জন্যই সে সবসময় সম্ভাব্য বিপদ খুঁজে বেড়ায়।

তুমি হয়তো জানো না, কিন্তু তোমার ব্রেন সারাদিন হাজার হাজার তথ্য প্রসেস করছে।

এদের মধ্যে বেশিরভাগই অবচেতনে ঘটছে, তুমি টেরও পাচ্ছো না।

কিন্তু যখন কোনো তথ্য ভয় বা উদ্বেগের সাথে জুড়ে যায়, তখন সেটা আটকে যায়।

তখনই ঘটে “Overthinking”।

নিউরোট্রান্সমিটার ও উদ্বেগ

মস্তিষ্কের মধ্যে কিছু রাসায়নিক থাকে, যেগুলো আমাদের অনুভূতিগুলো নিয়ন্ত্রণ করে।

এসব রাসায়নিককে বলে “নিউরোট্রান্সমিটার”।

অ্যানজাইটি ও ওভারথিংকিংয়ের পেছনে প্রধান তিনটি নিউরোট্রান্সমিটারের ভূমিকা রয়েছে—

১. সেরোটোনিন (Serotonin) → “শান্তির রাসায়নিক”

যখন মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত সেরোটোনিন থাকে, তখন আমরা শান্ত থাকি, চিন্তা পরিষ্কার থাকে।

কিন্তু যখন এটা কমে যায়, তখন উদ্বেগ বেড়ে যায়।

২. ডোপামিন (Dopamine) → “প্রেরণার রাসায়নিক”

ডোপামিন আমাদের উদ্যম দেয়, কিছু করার ইচ্ছা বাড়ায়।

কিন্তু কেউ যদি খুব বেশি চিন্তা করে, তাহলে তার ডোপামিন লেভেল ওঠানামা করতে থাকে—

যার ফলে একবার মনে হয় কিছু করতেই হবে, আবার মনে হয় কিছুই করা সম্ভব না!

৩. কর্টিসল (Cortisol) → “স্ট্রেস হরমোন”

কর্টিসল মূলত তখন বেড়ে যায়, যখন মস্তিষ্ক মনে করে আমরা বিপদে আছি।

কিন্তু যদি মস্তিষ্ক ভুল সংকেত পায়?

তাহলে এই কর্টিসল বেশি হয়ে যাবে, আর আমরা না থাকা বিপদকেও বিপদ মনে করব।

কেন কিছু মানুষ বেশি Overthink করে?

একজন মানুষ সবসময় অতিরিক্ত চিন্তা করবে কি না, সেটা নির্ভর করে—

১. তার মস্তিষ্কের গঠন কেমন?

২. তার অভ্যাস কেমন?

৩. তার পরিবেশ কেমন?

আমাদের মস্তিষ্ক দুইভাবে চিন্তা করে—

System 1 → দ্রুত, স্বয়ংক্রিয়, আবেগনির্ভর

System 2 → ধীর, যুক্তিবাদী, গভীর চিন্তাশীল

যাদের বেশি অ্যানজাইটি হয়, তাদের System 1 বেশি সক্রিয় থাকে।

এরা দ্রুত ভয় পায়, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়, এবং অনেক কিছু মাথায় ঘুরপাক খায়।

যারা ঠান্ডা মাথার মানুষ, তাদের System 2 বেশি শক্তিশালী।

এরা ধীরেসুস্থে চিন্তা করে, সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে ভাবতে সময় নেয়।

তাহলে আমরা কি System 2-কে শক্তিশালী করতে পারি?

হ্যাঁ, পারি।

চিন্তার জাল কেটে বের হওয়ার উপায়

১. চিন্তাগুলোকে কাগজে লেখো

যখনই মনে হবে মাথায় অনেক চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে, তখন সেগুলো একটা খাতায় লিখে ফেলো।

এতে করে মস্তিষ্ক বুঝতে পারবে যে এটা নিয়ে নতুন করে ভাবার দরকার নেই।

২. একবারেই চিন্তা করো না

একটা নিয়ম বানাও—

দুপুর ২টা থেকে ২:৩০টা পর্যন্ত শুধু চিন্তা করব।

এরপর সেই চিন্তাগুলো মাথা থেকে সরিয়ে ফেলব।

৩. শরীরকে শান্ত করো

মস্তিষ্ক তখনই বেশি চিন্তা করে, যখন শরীর স্ট্রেসড থাকে।

তাই—

• গভীর শ্বাস নাও

• হালকা ব্যায়াম করো

• পানি খাও

৪. ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধোঁয়াশা থাকলে মেনে নাও

সবকিছু নিয়ে আগাম ভাবা সম্ভব না।

কিছু জিনিসকে “আমি এখন জানি না, পরে দেখব” বলে ছেড়ে দিতে হয়।

উপসংহার: চিন্তার লুপ থেকে মুক্তি

অতিরিক্ত চিন্তা হওয়া মানে তুমি অস্বাভাবিক নও।

তুমি এমন এক যন্ত্র নিয়ে জন্মেছ, যেটা স্বাভাবিকভাবেই ওভারথিংক করতে পারে।

কিন্তু তুমি যদি তোমার মস্তিষ্কের কাজ করার ধরন বুঝতে পারো, তাহলে তুমি এটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।

তাই, যখনই মনে হবে—

“আমি কেন এত চিন্তা করি?”

তখন ভাববে—

“আমার মস্তিষ্ক আমাকে রক্ষা করতে চাচ্ছে, কিন্তু আমাকে বুঝতে হবে কখন সেটা সত্যি, আর কখন সেটা অপ্রয়োজনীয়!”

চলো, এবার এগিয়ে যাই পরের অধ্যায়ে—“হঠাৎ ভয় করে কেন?”

Raiyyan Tahsan Date:-28-06-2025 Saturday Time:-10-47-45 Pm

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top